- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://sunamganjerkhobor.com -

রেপিড টেস্ট ও প্লাজমা থেরাপি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে

উপসর্গহীন কোভিড আক্রান্তদের নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এই ধরনের রোগীর সংখ্যা কম নয়। উপসর্গ না থাকলে সাধারণত কেউ সন্দেহ প্রকাশ করে না, এরা পরীক্ষা করতেও আসে না। উপসর্গহীন কোভিড আক্রান্তদের যে সংখ্যাটি এখন আমাদের সামনে এসেছে, হয় তাদের পরিবার বা কর্মস্থলের অন্য কেউ পজিটিভ ছিলেন, এই কারণে এদের পরীক্ষা হয়েছে। এর বাইরে আরও কত আক্রান্ত রোগী আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে কে জানে। এই সংখ্যা কম হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এদের কোনো পরীক্ষার আওতায় আনাও যাচ্ছে না। এটি একটি ভয়াবহ বিপদ। নিরব বাহক হয়ে এরা জীবাণু ছড়ানোয় সবচাইতে বেশি সংহারী ভূমিকা রাখছে। সারা দেশে টিকা দান কর্মসূচীর মতো ব্যাপকভাবে কোভিড টেস্টের ব্যবস্থা থাকলে জানা যেত কত লোক পজিটিভ। কিন্তু আরটি-পিসিআর টেস্ট করার জন্য বাংলাদেশের সামর্থ এবং ব্যয়াধিক্যের কারণে এটি অবাস্তব চিন্তা। এই জায়গায় সাধারণ পরীক্ষা পদ্ধতি থাকলে সুবিধা হত। বিভিন্ন দেশ এখন এন্টিবডি টেস্টের দিকে ঝুঁকছে। আমাদের দেশের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রও এন্টিবডি ও এন্টিজেন টেস্টের সমন্বিত রেপিড টেস্ট কিট আবিষ্কার করেছে বলে দাবি করেছে। কিন্তু গণস্বাস্থ্যের এই কিটটি দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হ্েচ্ছ বলে আমরা দেখতে পাই। অথচ এই ধরনের একটি উদ্ভাবন পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। গণস্বাস্থ্যের কিটটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে দুই সপ্তাহ ধরে অপেক্ষমাণ। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই কিটটি উত্তীর্ণ হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। গণস্বাস্থ্যের দাবি মতে এই কিটের কার্যকারিতা থাকলে এটি করোনা রোগ ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী প্রভাব ফেলতে পারত। এই টেস্ট করতে আধ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না এবং এর খরচ ৩ শ’ টাকার বেশি নয়। সুতরাং কার্যকর হলে সারা দেশের সকল নাগরিককে এই টেস্টের আওতায় আনা সম্ভব। যদি তা করা যেত তাহলে আমাদের দেশে কোভিড ১৯ কোন্ পর্যায়ে রয়েছে সেটি অনুমান করে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ সম্ভব হত।

করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি নামের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিটিও বেশ সফলতা পাচ্ছে। অন্তত আক্রান্তদের সবচাইতে খারাপ পরিস্থিতিতে (ভেন্টিলেশন পর্যায়ে) যাওয়া আটকে রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। কোভিড ১৯ এর কার্যকর টিকা আবিষ্কার এখনও সুদূর পরাহত। এর চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত যত ঔষধ ও পদ্ধতির কথা শুনা যাচ্ছে আমাদের কাছে তন্মধ্যে প্লাজমা থেরাপিকেই সবচাইতে কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি বলে মনে হয়। প্লাজমা থেরাপিতেও অর্থ খরচের পরিমাণ কম। এখানে রক্তাদাতা সংগ্রহ করাটাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত দানের ক্ষেত্রে আমাদের তরুণ সমাজের মধ্যে একটি ভালো সংস্কৃতি রয়েছে। কোভিড আক্রান্ত যারা সুস্থ হচ্ছেন তাদের একটি বড় অংশ তরুণ ও যুব সম্প্রদায়ের। তাই প্লাজমা সংগ্রহের জন্য ডোনার পাওয়া খুব কঠিন কাজ হবে বলে আমাদের মনে হয় না।

সবকিছু বন্ধ রেখে দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকা কিছুতেই সম্ভব নয়। অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে জীবন কোভিডের মতোই আরেক সর্বনাশা বিপর্যয়ে পতিত হবে। তাই জীবন ও জীবিকার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা অবশ্যই বের করতে হবে। এই জায়গায় আপাতত রেপিড টেস্ট ও প্লাজমা থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সরকারের উচিৎ এই দুই জায়গায় যে বাধাগুলো রয়েছে সেগুলো দূর করা। সংকট কালেও কিন্তু একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সক্রিয় থাকে। এরা মুনাফাহীন কিন্তু জনকল্যাণমুখী বিষয়গুলোকে আটকে দিতে মরিয়া চেষ্টায় লিপ্ত হয়। এই গোষ্ঠী সম্পর্কেও সমানভাবে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা আশা করব, সরকার রেপিড টেস্ট ও প্লাজমা থেরাপি নিয়ে কার্যকর চিন্তা করবেন।

  • [১]