রেলমন্ত্রী বরাবরে ৫ এমপির চিঠি

বিজয় রায়, ছাতক
সারা দেশের অভূতপূর্ণ উন্নয়নের সাথে ছাতক-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন স্থাপনের বিষয়টি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে এই অঞ্চলের আপামর মানুষ মনে করছেন। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে- এমন প্রত্যাশায় এখন প্রহর গুনছেন ছাতক-দোয়ারাসহ এই অঞ্চলের মানুষ ।
বিজ্ঞজনদের মতে, সিলেট-ছাতক রেল লাইন জেলা সদর সুনামগঞ্জ হয়ে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত হলে রাজধানী ঢাকার সাথে রেলওয়ের একটি বৃত্তাকার পথ সৃষ্টি হবে এবং ভাটি অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের আরো একটি জেলা শহর রেল যোগাযোগের উন্নয়নের আওতায় আসবে। এ লক্ষ্যে সিলেট-ছাতক রেললাইনকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করে তা মোহনগঞ্জের সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি অ্যালাইনমেন্টও তৈরী করা হয়েছিল। সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই ছাতক-দোয়ারা-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইনের কাজ শুরু হয়ে সিংহভাগ কাজ শেষ হবে বলে আশায় বুক বেঁধেছে ছাতক-দোয়ারার সর্বস্তরের মানুষ।
ছাতক-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন স্থাপন নিয়ে রেল মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ২০১২ সালে কয়েক দফা এলাকা সরজমিনে পরিদর্শনসহ সমিক্ষাও চালিয়েছেন। কিন্তু রেললাইন স্থাপনে পূর্বের অ্যালইনমেন্ট পরিবর্তন হচ্ছে এমন গুঞ্জনে সাধারন মানুষের মধ্যে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা। অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তনের আশংকাও করছেন জেলার ৫ এমপিসহ জনপ্রতিনিধিরা।
এ ব্যাপারে সহজ ও সঠিক অ্যালাইনমেন্টে ছাতক-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে গত ৮ জুন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়াসেন গুপ্ত, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ও সংরক্ষিত আসনের এমপি শামীমা শাহরিয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এমপি বরাবরে দিয়েছেন।
জানা যায়, দেশের শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত ছাতকে রেলপথ স্থাপিত হয় ১৯৫৪ সালে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছাতক রেললাইনে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করার যৌক্তিক দাবি উঠে স্বতস্ফূর্তভাবে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছরেও কোন সরকারই ছাতক-দোয়ারাবাসীর এ দাবি কর্ণপাত করেননি। ২০১১ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামীলীগ সরকারের রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় ছাতক-দোয়ারা-সুনামগঞ্জ রেলপথ স্থাপনের দাবিটি আরারো জোরালো হয়ে উঠে। ২০১২ সালে ছাতকের আকিজ মাঠে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে দেয়া সংবর্ধনা সভায় তিনি ছাতক-দোয়ারাবাসীর দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ছাতক-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ছাতক-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন স্থাপনে রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কয়েক দফা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনসহ সমিক্ষা চালিয়ে এর একটি অ্যালইনমেন্টও তৈরী করেছিলেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পর ছাতক-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেন বর্তমান পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। রেললাইন স্থাপনে তার আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা ছাতকসহ জেলার বিভিন্ন জনসভায় ঘোষণা দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষকেও আশ্বস্ত করেছেন।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করেছেন, নতুন অ্যালাইনমেন্টে রেললাইন স্থাপন করা হলে এর দূরত্ব এবং অর্থ ব্যয় হবে কয়েকগুণ বেশী। পূর্বে করা অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী স্থাপতি হলে ছাতক-সুনামগঞ্জ রেললাইনের দূরত্ব হবে মাত্র ২২ কিলোমিটার। এ দূরত্বের মধ্যে দু’একটি খাল ছাড়া আর কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না এবং সুরমা নদী থেকে রেললাইনের দূরত্ব হবে ৩-৪ কি.মি. দূরে। যা দেখার হাওরের উত্তরপার পাশ দিয়ে সুনামগঞ্জ প্রবেশ করবে। এছাড়া রেললাইন স্থাপনে জীববৈচিত্র্যের কোন অনিষ্ট ও নদী ভাঙ্গনে রেললাইনের কোন ক্ষতি হবে না এবং এই অঞ্চলের সিংহভাগ মানুষ উপকৃত হবে বলে মন্ত্রী দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাতক রেলস্টেশন হতে দোয়ারাবাজার হয়ে সুনামগঞ্জ সদর পর্যন্ত অ্যালইনমেন্টে রেললাইন স্থাপন কাজ হবে সহজ, অধিকতর সাশ্রয়ী, বাস্তবমুখী ও যৌক্তিক। বর্ণিত অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী ছাতক-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেললাইন স্থাপনের জন্য রেলমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান জেলার ৫ এমপি।