রোদের দেখা পেয়ে ধান শুকানোর ধুম

স্টাফ রিপোর্টার
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে চারদিকে পানিতে টইটুম্বুর। কয়েকদিন পর একটু রোদের দেখা পেয়ে সড়কেই ধান শুকাতে দেখা যায় কৃষক—কৃষাণিদের। শুক্রবার এই চিত্র দেখা যায়, সুনামগঞ্জ—বিশ্বম্ভরপুর সড়কে। সুনামগঞ্জের লালপুর থেকে বিশ্বম্ভপুর পর্যন্ত সড়কের একপাশকে ধান মাড়াইয়ের চাতাল হিসেবে ব্যবহার করেন কৃষক ও কৃষাণিরা।
কৃষকরা জানান, প্রথমে বন্যার ছিল আশংকা, এরপর অবিরাম বৃষ্টিতে কাটা ধান শুকাতে না পেরে উৎকণ্ঠায় দিন যাপন করেছেন কৃষকেরা। বৃষ্টির কারণে অনেকের ধান পচে গেছে, কারো ধানে চারা গজিয়েছে। শুক্রবার হঠাৎ এক চিলতে রোদের দেখা পেয়ে এক মুঠো চালের আশায় পচে যাওয়া ও ভেজা ধান শুকাতে দেখা গেছে কৃষকদের।
তারা জানান, ধান কাটলেও রোদের অভাবে সেগুলো ঘরে তুলতে পারেননি। ভেজা থাকতে থাকতে পচে যাচ্ছে। তাই লাগাতার বৃষ্টির পর একটু রোদের দেখা পেয়ে সবাই ধান শুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
কৃষাণি চম্পা বেগম বলেন, রোদের অভাবে সব ধান নষ্ট হওয়ার পথে। কিছু ধান কাটার পর সেগুলো সেদ্ধ করে আজকে সামান্য রোদ পেয়ে শুকাচ্ছি।
আরেক কৃষাণি আছিয়া বেগম জানালেন , ৭ কেয়ার (তিন একর এক কেয়ার) ধান করে ৩ কেয়ার ধান কেটেছেন। ৪ কেয়ার জমির ধান পানির তলে তলিয়ে গেছে। বাকি ৩ কেয়ার জমির ধান কেটেছেন। এই ধানে একটু পানি লাগলে চাল করতে কষ্ট হবে, এতে করে ওই চালের ভাত আর খাওয়া যাবে না।
পলাশ বাজারের কৃষক রফিক উদ্দিন বললেন, আমার জমি বেশ উঁচুতে সড়কের কিনারে। তাই আমি ধান লাগাই দেরিতে, কাটাও হয় দেরিতে। কিন্তু এবার হুট করেই পানি চলে আসছে। কিছু ধান কাটছি পানির তল থেকে। সেগুলোই এখন সড়কে শুকাচ্ছি।