লকডাউনের আওতামুক্ত ধান কাটার শ্রমিকরা

বিশেষ প্রতিনিধি
লকডাউনের আওতায় থাকবে না ধান কাটা মাড়াইয়ের শ্রমিক বহনকারী পরিবহন বা ধান কাটার যন্ত্রপাতির দোকান পাটগুলোও। একই সঙ্গে ধান কাটার শ্রমিকরা হাওরপাড়ে থাকতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান বলেছেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিল, ধান কাটা মাড়াই চলাকালে কৃষি শ্রমিক আসা যাওয়ার পরিবহন যাতে বিনা বাধায় চলতে পারে। কৃষক যাতে কৃষি যন্ত্রপাতি সহজে পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখার জন্য। সরকারি নির্দেশনায় সেটি রাখায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
ফরিদুল হাসান জানান, সোমবার বিকাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৯৯৮০ হেক্টর জমির বোরো ধান কাটা হয়েছে। যা মোট ফলানো ধানের মাত্র ৪ শতাংশ। সোমবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলায় অন্য জেলা থেকে ধান কাটার জন্য দুই হাজার ১৮৩ জন শ্রমিক আসছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহায়াবিদ সাঈদ আহমদ জানিয়েছেন আগামী সপ্তাহ সুনামগঞ্জে আবহাওয়াও ভালো থাকবে। ধান কাটার অনুকূলে থাকবে আবহাওয়া। সুনামগঞ্জ সদর ও ছাতকে আগামী ১৫ এপ্রিল দুপুর ১২ টার পর হালকা বৃষ্টি হতে পারে। যা এক থেকে দুই মিলি মিটারের বেশি নয়। এছাড়া ১৮ থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে দিনে বৃষ্টিপাত নেই বললেই চলে। রাত ১২ টার পর এই চার দিন বৃষ্টি হবে। এই চার দিনে ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হবে দোয়ারাবাজারে। যা এই জেলায় সর্বোচ্চ। সর্বনি¤œ বৃষ্টি হবে শাল্লায় ৪২ মিলিমিটার। অন্যান্য উপজেলায় ৫০ থেকে ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
সাঈদ আহমদ জানান, উজানে অর্থাৎ মেঘালয় বা আসামের বরাক উপত্যকায়ও আগামী তিন দিনে থেমন বৃষ্টিপাত নেই। এই আবহাওয়াবিদ বললেন, যেহেতু খড়া যাচ্ছে, সামান্য পরিমাণের বৃষ্টির সঙ্গে শীলাবৃষ্টি হবার আশংকা আছে।
সোমবার বিকাল ৫ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের আয়োজনে কোভিড মোকাবেলায় আয়োজিত ভার্চুয়াল সভায় লকডাউনেও ধান কাটা মাড়াইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ধান কাটা শ্রমিকদের আসা যাওয়া থাকা এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
সুনামগঞ্জে এবার তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা মোতাবেক উৎপাদন হলে কেবল সুনামগঞ্জ নয়, সারাদেশের খাদ্য চাহিদা মেঠাতে ভূমিকা রাখবে এই জেলা।