লাউক্ষেতের কী দোষ

বিশেষ প্রতিনিধি
লাউগাছের কী দোষ। গভীর রাতে কেটে দেওয়া হলো প্রায় চারশ’ লাউ গাছ! সুনামগঞ্জ শহরতলির সুরমা ইউনিয়নের অক্ষয়নগর এলাকায় শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দরিদ্র কৃষক জাবেদ আলী শনিবার লাউক্ষেতে বসেই হা-হুতাশ করছিলেন।
এলাকাবাসী জানান, মুসলিমপুর গ্রামের কৃষক জাবেদ আলীর নিজের এক ছটাক জমিও নেই। ৩৫ বছর ধরে দুই ছেলেকে নিয়ে অন্যের জমি বর্গা করেন তিনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে অসময়ে খরা-বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে একেবারে নাভিশ্বাস অবস্থায় রয়েছেন এই কৃষক। এই বছরও প্রায় চার লাখ টাকা দাদনে নিয়ে আগাম সবজির চাষাবাদ করেছেন তিনি। শুক্রবার দিনে অক্ষয়নগর গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়ার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল জাবেদ আলীর। এক পর্যায়ে রুবেল তাকে হুমকি দিয়ে বলে যায়, কিভাবে সবজি চাষাবাদ করো দেখে নেব। শনিবার সকালে ক্ষেতে এসে তিনি দেখতে পান শত শত লাউ গাছ কাটা। পরে এলাকার মানুষের পরামর্শে শনিবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে আসেন তিনি। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জাবেদ আলী এই ঘটনা অক্ষয়নগর গ্রামের রুবেল মিয় ও তার ভাই জুয়েল মিয়া ঘটিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
জাবেদ আলী বললেন, ‘পাশের অক্ষয়নগর গ্রামের রুবেল মিয়া শুক্রবার এসে আমার কাছে শশা ও লাউ চায়। আমি বললাম, লাউ শশা ক্ষেতে নাই। এক পর্যায়ে আমার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় তার। পরে অন্যরা এসে ফিরিয়ে নেয় তাকে। যাবার সময় সে হুমকি দিয়ে গেছে, তোমারে গিরস্তি (গৃহস্তি) করাইমু আমি, সকালে আইয়া দেখি আমার চাইর-পাঁচশ’ লাউ গাছ কাটা।’
জাবেদ আলীর ছেলে বাচ্চু মিয়া জানালেন, সাড়ে তিন লাখ টাকা সুদ এনে আগাম শীতের সবজি ক্ষেত করেছেন তারা। দোষ করলে তার বাবা করেছেন, লাউ গাছ তো দোষ করে নি।
পাশের ইব্রাহিমপুর গ্রামের সবজির আড়ৎদার শামছুল আলম বললেন, জাবেদ আলী ১৫ বছর ধরে তার আড়তে সবজি বিক্রি করেন। এবার আড়তে লাউ দেবার জন্য এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকা তার কাছ থেকে অগ্রিমও এনেছেন জাবেদ আলী। শুক্রবার রাতে তার কয়েকশ’ লাউ গাছ রাতের আধারে কেটে দেওয়া হয়েছে খবর পেয়ে তিনিও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
মুসলিমপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হক বললেন, শুক্রবার জাবেদ আলী ও রুবেল মিয়ার ঝগড়ার সময় তারা এসে মধ্যস্ততা করেছেন। রাতে জাবেদ আলীর লাউক্ষেতে যা হয়েছে, কোন কৃষকই এই দৃশ্য দেখে ধৈর্য্য ধরতে পারবে না। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার বিচার দাবি করলেন।
অভিযুক্ত রুবেল মিয়া শুক্রবার জাবেদ আলীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়েছে স্বীকার করে বললেন, লাউগাছ তিনি কাটেন নি।
থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী শনিবার বিকাল চারটায় জানান, কৃষক জাবেদ আলীর লিখিত অভিযোগ তার দেখা হয় নি। তিনি দেখে ব্যবস্থা নেবেন।