লাল শাপলার সৌন্দর্য, মন কাড়ে মানুষের

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
ষড় ঋতুর এই দেশে বাংলার প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে। সবুজ পত্রপল্লবে ছেয়ে যায় বৃক্ষরাজি। বিশেষ করে বর্ষাকালে বিলে—ঝিলে, ডোবা নালা, পুকুর জলাশয়ে থাকা জলজ উদ্ভিদগুলো প্রাণ ফিরে পায়। শীতের আগমন না ঘটলেও আবহমান গ্রাম বাংলার প্রকৃতি সেজেছে পদ্ম ও লাল শাপলার। ভোরের আলো ফুটতেই বিলের পানিতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায় পদ্ম ও শাপলা। সেই সাথে নানা প্রজাতির পাখীর কিচির মিচির কোলাহলে ঘুম ভাঙ্গে বিলের আশপাশের মানুষদের। সকাল থেকে শুরু হয় ভ্রমণ পিপাসু ও সাচনা সুনামগঞ্জ যাত্রীদের আনাগোনা। শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। আর এই শাপলা গ্রাম গঞ্জের রূপ প্রকৃতির অলংকার ও বটে।
বলছিলাম জামালগঞ্জের সাচনা বাজার থেকে সুনামগঞ্জ যাওয়ার পথে গৌরারং ইউনিয়নের নিয়ামতপুরের ধলা ও লাংগলকাটা ধলার বিলের দুই পাশে ছিটিয়ে থাকা হাওরের শাখা প্রশাখার কথা। স্থানীয় নিয়ামতপুর গ্রামের শামছুন্নুর, মো. আব্দুল বাছির, পিরুজপুর গ্রামের মন্তোষ দাসের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাস্তার দুই পাড়ে প্রায় ত্রিশ একর জায়গায় তিনবছর যাবত ফুটে লাল শাপলা। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া লাল শাপলা পদ্মফুল সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। দেখলে মনে হয় এ যেন লাল শাপলার রাজ্য। রাস্তার দুই পাশে যেদিকে চোখ যায় লাল শাপলার সৌন্দর্য দেখে অবাক হতে হয়। সারি সারি পথ ফুলের অপার সৌন্দর্যে বিনোদন প্রেমিকদের মুগ্ধ করেছে। দুর থেকে দেখলে মনে হয় ফুলের বিছানা পেতে রেখেছে কেউ।
তবে সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে প্রতিদিন শত শত লোক ফুল ছিঁড়ে বিলের সৌন্দর্য নষ্ট করেছেন অনেকে। বর্ষাকালে এই বিলের অধিকাংশ জমিতেই প্রাকৃতিক ভাবে পদ্মফুল জন্মে। সাচনা সুনামগঞ্জের যাত্রীরা সিএনজি, অটো মটরবাইক থামিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোবাইলে ছবি ধারন করে আনন্দ উপভোগ করেন।
এলাকাবাসীরা জানান, পুরো বিল যেন লাল শাপলা এবং গোলাপী আর সাদা রংয়ের পদ্ধফুলে ভরে উঠে। এযেন বিধাতার এক অপরূপ সৃষ্টি, যা দেখলে যে কারো মন জুড়িয়ে যায়। আগত দর্শনার্থী ও পথচারীগণ যে যার মত করে লাল শাপলা ও পদ্মবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন আর মোবাইল ক্যামেরায় ফ্রেমে বন্দি করে প্রচার করছেন এ বিলের অপরূপ দৃশ্য।
গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী বলেন, আমার ইউনিয়নে নিয়ামতপুর এলাকায় রাস্তার দুই পাশে শাপলা ফুলের অপরূপ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন শত—শত লোকজন আসছেন। যা দেখে সকলের মন জুরিয়ে যায়। আগামী বৎসর দুরদূরান্ত থেকে আগত লোকজন যাতে নৌকায় চরে বিনোদন করতে পারে, আমি সেই ব্যবস্থা করে দিব।