শহরে বাদশার আগমন…

লিপসন আহমদ
সুনামগঞ্জ পৌর শহরে একটি বানরের আগমন ঘটেছে। পুরো শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আজ এদিকে তো কাল সেদিকে। প্রথমে বাঁদরামিও করেছে অনেক। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে খাবার কেড়ে খেতো। এখন বাসিন্দারাই তাকে আদর করে খাবার দেন। অনেকে খাবার নিয়ে অপেক্ষাও করেন। নামও রেখেছেন ‘বাদশা’। এক একদিন এক এক পয়েন্টে অবস্থান করে বানরটি। খাবার পেয়ে নিরুপদ্রব জীবনযাপন করছে এখন।
শনিবার (০৮ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের উত্তর আরপিননগর পয়েন্টে দেখা যায় বানরটিকে। সাহেববাড়ি ঘাটের দিক দিয়ে হেঁটে হেটে আসছে। কেউ কেউ বাদশা বলে ডাক দিয়ে পাউরুটি কিংবা অন্য কোন খাবার দিচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পৌর শহরের উত্তর আরপিননগর পয়েন্ট, জেলরোড পয়েন্ট, উকিলপাড়া পয়েন্ট, কালীবাড়ি পয়েন্ট এবং হোসেন বখত চত্বর পয়েন্টে বানরটিকে সকালে দেখা যায়। এক একদিন বানরটি এক এক পয়েন্টে অবস্থান করে। প্রথম দিকে বানরটি কারো হাতে কোন খাবার দেখলে তা জোর করে কেড়ে খেড়ে নিতো। তবে মানুষজন বানরটিকে না মেরে ভালবেসে সকালে খাবার দিচ্ছে। এতে বানরের উৎপাতও কমে গেছে।
শহরের উত্তর আরপিননগর এলাকার বাসিন্দা মেহের আহমদ বলেন, বানরটি প্রথম যখন আমাদের এলাকায় আসে আমি তখন পাউরুটি খাচ্ছিলাম, বানরটি কামছা মেরে পাউরুটি আমার হাত থেকে নিয়ে খেয়ে ফেলে। এখন বানর আসলে আমরা বন্ধুরা মিলে তাকে পাউরুটি খাবাই এবং বাদশা বলে ডাকি।
শহরের উকিল পাড়া এলাকার বাসিন্দা কবির আহমদ বলেন, আমি সকালে স্যারের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় ব্যাগের মধ্যে কলা নিয়ে যাই, যেদিন বাদশা (বানর) পাই সেদিন কলা খাওয়াই।
পৌর শহরের হোসেন বখত চত্বর এলাকার বাসিন্দা তন্ময় মিয়া বলেন, আসলে একটি বানর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা সত্যি খুব চিন্তার বিষয়। যদি বানরটি কোন শিশুকে কামড়ে দেয়Ñ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই বানরটির বিষয়ে যেনো দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
শহরের কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সিয়াম তালুকদার বললেন, বানরটিকে নিরাপদ রাখা বনবিভাগের দায়িত্ব।
সুনামগঞ্জ বন বিভাগের কর্মকর্তা অরুণ বরুণ চৌধুরী বলেন, একটি বানর শহরে ঘুরাঘুরি করছে সেটা আমরা খবর পেয়ে আমরা একটি সভা করেছি, মৌলভীবাজার বন্য প্রাণী বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেছি, তারা বলেছে এই বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই। তবে সুনামগঞ্জের সকল মানুষের প্রতি আমার অনুরোধ, কেউ যাতে বানরটিকে বিরক্ত না করেন।