শহরে মোটর সাইকেল চুরি বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহরে মোটর সাইকেল চুরি বেড়ে চলেছে। গত ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকে বেশি পরিমাণে শহরের আবাসিক এলাকায় মোটর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, মোটর সাইকেল চোর চক্রের সদস্যরা খুবই চতুর এবং অভিজ্ঞ। বাইকের লক খুলে নিমিষেই পালিয়ে যায় তারা। পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে আড়ালে থাকা অন্যান্য সদস্যরা। পরে এই মোটর সাইকেল নিয়ে সুযোগমতো হাজির হয় মেকানিক্সের দোকানে। দোকানে নিরাপদ না থাকলে চলে যায় তাদের বাসা-বাড়িতে। মেকানিক্সদের সাথে যোগসাজস থাকায় দ্রুত পুরো মোটর সাইকেলের চেহারা পাল্টে দেয় তারা। পরে বিক্রি করার ব্যবস্থাও করে ওই মেকানিক্স। বিনিময়ে মেকানিক্সও পায় মোটা অংকের টাকা।
এ ধরণের ঘটনায় ইতোপূর্বে একাধিক চোর ও মেকানিক্সর বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের ডিবি পুলিশে মামলাও হয়েছে। ওই মামলায় চোর ও মেকানিক্স মাসাধিক কাল জেলহাজতে সাজাও ভোগ করেছে।
গত শুক্রবার চুরি হয়েছে সুনামগঞ্জ পৌরসভার কর্মচারী আসাদুজ্জামান আছমানের মোটর সাইকেল। তাঁর মোটর সাইকেল নম্বর ঢাকা মেট্রো-খ-৩৭৭৫৮৬। তিনি জানান, শহরের পশ্চিম তেঘরিয়ায় তার নিজ বাসায় প্রতিদিনের মতো মোটর সাইকেল রেখেছিলেন। রাত অনুমান ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এই চুরির ঘটনা ঘটে। পরে তিনি অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি মোটর সাইকেলের। এই ঘটনায় সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি জানান, এই ঘটনার পর মধ্যবাজারের প্রেমদা বস্ত্রলয়ের সামনে থেকে একটি এবং বিহারী পয়েন্টে এলাকা থেকে আরও ১টি মোটর সাইকেল চুরি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার অপর কর্মচারী শাহজাহান মিয়ার মোটর সাইকেলও চুরি হয়েছে। তাঁর মোটর সাইকেলের নম্বর- সুনামগঞ্জ-হ-১১-১৩৬৪, তিনি জানান, গত ১২ মে মল্লিকপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনকালে চুরি হয়ে যায় তাঁর মোটর সাইকেল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মোটর সাইকেল না পেয়ে সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি। শাহজাহানের বাড়িও শহরের পশ্চিম তেঘরিয়ায়। তিনি আরও জানান, ঈদের দুইদিন পর মল্লিকপুর পেট্রোল পাম্পের কাছে থেকে স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনের ছেলের মোটর সাইকেলও চুরি হয়েছে। ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকা থেকেও একটি মোটর সাইকেল চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মোটর সাইকেল চালক মুহিত মিয়া ও কামরান আহমদ জানান, মোটর সাইকেল চুরির পর মেকানিক্স বাইকের চেহারা পাল্টে দেয়। বিগত সময়ে একটি মামলায় চোর ও মেকানিক্স মাসাধিক কাল জেলহাজতে সাজাও ভোগ করেছেন। এই চক্রের সদস্যরা এমন ঘটনায় যুক্ত থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন।
শহরের বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মোটর সাইকেলের মেকানিক্সেরা দেখা যায় শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গিয়েও কাজ করতে। এমনকি তাদের বাসা-বাড়িতেও মানুষজন যোগাযোগ করে মোটর সাইকেল মেরামত করতে নিয়ে যায়। এসব মেকানিক্সদের বাসা-বাড়িতে সন্ধান করা এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরির রহস্য বের হতে পারে।
সদর মডেল থানার ওসি মো. সহিদুর রহমান বলেন, শহরের মোটর সাইকেল চুরি প্রতিরোধে পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত আছে। চোরদের ধরতে চেষ্টা চলছে।