শান্তিগঞ্জে সহসাই কমছে না দুর্ভোগ

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টির কারণে একরকম হঠাৎ করেই বন্যায় প্লাবিত হয় শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রাম। উপজেলার যে গ্রামগুলো বন্যাক্রান্ত হয়নি, সেই গ্রামগুলোতে কম করে হলেও পানিতে তলিয়েছিলো ওই গ্রামগুলোর চলাচলের সড়ক। শনিবার রাত ও দিন থেকে কমতে থাকে উপজেলার হাওর ও নদ—নদীর পানি। এ দু’দিনে ন্যুনতম ১ ফুট পানি কমেছে। ভেসে উঠেছে অনেকের বসতঘর ও সড়ক। তবে দুর্ভোগ এখনো কমেনি উপজেলাবাসীর। কয়েক হাজার কৃষকের কাটা ধান নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন। রোদের দেখা পাওয়ায় কৃষকরা এখন ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন বিভিন্ন সড়ক, বিদ্যালয়ের মাঠে। রোদের দেখা মিললে মেলে দেন ধান আবার আকাশে যখন মেঘ করে তখনই গুছিয়ে নিতে হয় ধানগুলোকে। এভাবেই রোদ—মেঘ—বৃষ্টি আর কৃষকের লুকোচুরি খেলা চলছেই। এমন দুর্ভোগে আছেন কৃষকেরা। এদিকে, গবাদি পশু ও হাঁস—মুরগি নিয়েও দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অনেকে। গোয়ালের গরু নিয়ে অনেক কৃষক আশ্রয় নিয়েছেন সিলেট—সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের একাধিক জায়গায়।
চলতি বছরের মে মাস প্রায় শেষ। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রাক—নির্বাচনী পরীক্ষা শেষ হলেও কোনোটিতে এখনো চলছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা আগস্টে। স্কুল ও কলেজগুলোতে এখন পুরোদমে ক্লাস করার সময়। তবে বন্যায় রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে আসতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার্তরা আশ্রয় নেওয়ার কারণে প্রায় বন্ধ আছে পাঠদান, ব্যহত হচ্ছে চলমান পরীক্ষাসমূহ। এ অবস্থায় চরম শিক্ষা সংকটে বা ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা।
উপজেলাবাসী জানান, গত দু’দিন ধরে পানি কমছে। পানি বাড়লেও যেমন দুর্ভোগ—দুর্গতি বাড়ে পানি কমলেও দুর্ভোগ বাড়বে। তবে সে দুর্ভোগ হবে স্বস্তির। কোনো কোনো জায়গায় সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হবে। সে ক্ষতি পোষাতে দীর্ঘ দুর্ভোগের বেগ পেতে হবে।
উপজেলার চিকারকান্দি বাজার এলাকার বাসিন্দা হাফিজ সবুজ মিয়া বলেন, আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া যে বন্যায় বড় ধরণের কোনো ক্ষতি হয়নি। পানি কমছে। যদিও আমাদের এ এলাকার চলাচলের রাস্তা এখনো ডুবন্ত। তবে মাত্র জ্যৈষ্ঠ মাস চলছে। আষাঢ়, শ্রাবণ এমনকি ভাদ্র মাসেও আমাদের দেশে বন্যা হওয়ার নজির আছে। এখন কিছু পানি কমছে। সড়ক নষ্ট হয়েছে। কাদায় ভরা। চলতে অসুবিধা হচ্ছে। আর যেনো এমন বন্যা না হয় সে প্রত্যাশা করি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ্ জামান বলেন, বর্ষাকাল শেষ হলেই আমরা বিভিন্ন সংস্কার কাজে হাত দেবো।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, সচরাচর জ্যৈষ্ঠ মাসে বন্যা খুব একটা হয় না। এখন আমাদের ফসল রক্ষার প্রস্তুতি চলছিলো। আকস্মিক এ বন্যার প্রস্তুতি আমাদের ছিলো না। আষাঢ়—শ্রাবণ মাস দেখে তারপরে আমরা উন্নয়ন বা সংস্কার কাজে হাত দেবো। এখন যে রাস্তাগুলো ভাঙছে তা নোট করে রাখবো।