শান্তিগঞ্জে ‘হাতের কাম’ ঠেকাতে পাহারা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের ৮ ইউনিয়নের নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ও উত্তেজনাকর। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মনোযোগ কাড়ার কৌশল হিসেবে অনেক প্রার্থীই বেছে নিচ্ছেন অবৈধ পথ। রাত কিংবা দিনে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিশেষ ‘উৎকোচ’ দিয়ে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা চলছে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে। এই বিশেষ উৎকোচ স্থানীয়ভাবে ‘হাতের কাম’ বলেই পরিচিত। ইউনিয়নগুলোতে ‘অপেন সিক্রেট’ অবৈধ এই হাতের কাম ঠেকাতে একে অন্যের প্রতি পাহারা বসিয়েছেন প্রার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮ ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে মেম্বার এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (মহিলা মেম্বার) পদপ্রার্থীরাও গোপনে টাকা বিলিয়ে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
উপজেলার দরগাপাশা, পূর্ব পাগলা, জয়কলস, পশ্চিম পাগলা ও পূর্ব বীরগাঁওয়ের ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের একাধিক ভোটার জানিয়েছেন, দলে দলে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী ওয়ার্কের নামে পাড়া-মহল্লায় ঢুকে পড়েন বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা। তাদেরকে পাহাড়া দিতে কিংবা হাতের কাম ঠেকাতে তৎপর থাকেন অন্য প্রার্থীর সমর্থকেরা। শুধু যে এই ৫ টি ইউনিয়নেই হচ্ছে এমন অবৈধ খেলা তা কিন্তু নয়, এমন হাতের কাম চলছে উপজেলার বাকী ইউনিয়নগুলোতেও।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বুধবার রাতে থানার ওসি মুক্তাদীর আহমদের নিকট অভিযোগ করেছেন, তাকে ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডে বুধবার ঢুকতে দেওয়া হয় নি। অন্যদিকে ওই ওয়ার্ডের আরেক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুর রহমান জায়গীরদার খোকন বলেছেন, শফিকুল ইসলাম’এর হাতের কাম ঠেকাতে বাঁধা দেওয়ায় তিনি এমন অভিযোগ করছেন। ওই ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার বিকালে আইন-শৃঙ্খলা সভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাড. দেবাংশু শেখর দাশ ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মফিজুর রহমান গ্রামে গ্রামে টাকা ছড়ানোর (হাতের কাম) আশঙ্কা ব্যক্ত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন।
শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ বললেন, মানুষের নৈতিকতা মারাত্মক স্খলন হয়েছে। ভোট কিনতে চায়। এটা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়। যাদের কোনো যোগ্যতা নেই, তারাই ভোট কিনতে চায়।
শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মুক্তাদীর আহমদ বললেন, পশ্চিম বীরগাঁওয়ের আইন-শৃঙ্খলা সভায় কোন কোন প্রার্থী টাকা ছড়ানোর আশঙ্কা ব্যক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। লিখিত অভিযোগ হলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবো।
২৮ নভেম্বর জেলার শান্তিগঞ্জ ও সদর উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।