উপজেলার নতুন নামকরণ ও নতুন উপজেলা ঘোষণা, শান্তিগঞ্জ ও মধ্যনগরে আনন্দের বন্যা

বিশেষ প্রতিনিধি ও ধর্মপাশা প্রতিনিধি
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও মধ্যনগরবাসীর প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি ঘটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল স্বতন্ত্র নামে উপজেলা ঘোষণার। সোমবার প্রশাসনিক পূণর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৭ তম সভায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার নামকরণ হয়েছে ‘শান্তিগঞ্জ উপজেলা’ এবং মধ্যনগর থানা হয়েছে ‘মধ্যনগর উপজেলা’।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জকে শান্তিগঞ্জ করার দাবিতে ইতিপূর্বে মিছিল, সমাবেশ এবং স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের নাগরিকরা।
স্মারকলিপিতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসী নানা সময় দাবি উত্থাপন করেছেন, তারা নাম বৈষম্যের শিকার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নাম হবার কারণে তাদের চিঠিপত্র, এমনকি উন্নয়ন বরাদ্দ সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এবং সুনামগঞ্জ সদরে চলে যায় এসব সমস্যা জানিয়েছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসী।
নিকারের এই ঘোষণায় খুশি শান্তিগঞ্জ উপজেলাবাসী। ঘোষণার পর থেকেই তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাবাসী তাদের উপজেলার নাম পরিবর্তন করে একটি স্বতন্ত্র নাম হিসেবে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নামকরণ দাবি করেন।
দীর্ঘ ২ বছর অপেক্ষার পর সোমবার নিকারের সভায় নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ায় খুশি উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মানুষ।
নিজের নির্বাচনী এলাকায় শান্তিগঞ্জের নামে উপজেলা করতে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানও সক্রিয় ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেন, শান্তিগঞ্জ স্বতন্ত্র ও সুন্দর একটি নাম। আমার নির্বাচনী এলাকার আপামর মানুষের দাবি উপজেলার নাম শান্তিগঞ্জ হোক। গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি ঘটিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞ। শান্তিগঞ্জ নামে উপজেলা এবং মধ্যনগরকে উপজেলা ঘোষণার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সম্মানীত মন্ত্রী-সচিব সকলের সঙ্গে কথা বলেছি। এই নিয়েও ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমি নিরবেই কাজটি করেছি। সবকিছুই মানুষের মুখে হাঁসি ফোটানোর জন্য। নামের জন্য বিব্রত ছিলেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসী। সেটি দূর হয়েছে। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জকে আমি ভালোবাসি, সুনামগঞ্জ জেলা শহর আমার শহর। বেঁচে থাকলে সুনামগঞ্জকে বদলে দিতে চাই আমি।
এদিকে, দূরত্বজনিত কারণে মধ্যনগর থানার চারটি ইউনিয়নের জনগণ চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহানোর কারণে মধ্যনগর থানাকে দীর্ঘ বছর ধরে উপজেলায় উন্নীতকরণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এই অঞ্চলের মানুষ। তাদের দীর্ঘদিনের আশা সোমবার পূরণ হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মধ্যনগরবাসী। এই খবরে মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে সোমবার মধ্যনগর বাজারে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। মিছিলে মধ্যনগরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।
১৯৭৪ সালে মধ্যনগর, চামরদানি, বংশীকুন্ডা উত্তর ও বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনয়িন নিয়ে মধ্যনগর থানা গঠিত হয়। সোমেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবহেলিত মধ্যনগর থানার আয়তন ২২০ বর্গ কিলোমিটার। চারটি ইউনিয়নে প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস। এ থানার সর্বশেষ বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটারের ওপর। অপরদিকে উপজেলা সদর থেকে মধ্যনগরের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। ফলে প্রশাসনিক, শিক্ষা, চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এ থানার মানুষ দীর্ঘ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের ৮৬তম বৈঠকে মধ্যনগর থানা এলাকার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে মধ্যনগর উপজেলা স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে নিকারের ৮৮তম সভায় এ সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়েছিল।
মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক বিদ্যুৎ কান্তি সরকার বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
মধ্যনগরকে উপজেলায় উন্নীতকরণের জন্য সাবেক তথ্য সচিব (বর্তমানে প্রধান তথ্য কমিশনার) মধ্যনগরের সন্তান মরতুজা আহমদ নিরবে কাজ করেছেন। মধ্যনগরকে উপজেলা ঘোষণায় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘আজ মধ্যনগরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ এ স্বপ্ন পূরণের সাথে জড়িত সকলকে ধন্যবাদ জানাই।