শান্তিগঞ্জ কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স/ ১৮ পদের মধ্যে শূন্য ১২টি

সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ
জেলার শান্তিগঞ্জ কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় মৎস্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রেণু উৎপন্ন করে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা ছড়িয়ে দিতে এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। এখানে রেণু ও পোনা উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ একর ভূমির উপর গড়ে তোলা হ্যাচারি কমপ্লেক্সের ১৩ একর জুড়ে ছোট-বড় ১৮টি পুকুর রয়েছে। এছাড়া একটি হ্যাচারি বিল্ডিং, চারটি সার্কুলার ট্যাংক, পাঁচটি সিস্টার্ন ট্যাংক, একটি ডরমেটরি হাউস, একটি গুদাম, একটি অফিস ভবন, একটি আবাসিক ভবন এবং মৎস্য ভবন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।
জানা যায়, কমপ্লেক্সে সব মিলিয়ে বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ১৮টি পদ আছে। তবে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ছয়জন। এরা হলেন একজন হলেন হ্যাচারি কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহকারী ও চারজন ফিশারম্যান কাম গার্ড। বাকি ১২টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। মূল ফটকেও কোনো নিরাপত্তা কর্মী নেই। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হ্যাচারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
গত বছর বন্যায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্সের ১৮টি পুকুরই বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শান্তিগঞ্জ কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্সের প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। বর্তমানে হ্যাচারিটিতে আর্থিক সাল অনুপাতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৪৫ কেজি রেণু ও ১০ লাখ পোনা মাছ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। টাকার অংকে যা প্রায় ২০ লাখ।
এদিকে বুধবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ হ্যাচারিটিতে রেনু ও পোনা মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যে স্থানীয় ও বিদেশী জাতের রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার, বিগ্রেড, কালি বাউস, সরপুঁটি, গনিয়া সহ প্রায় ৩ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৫৭০ কেজি মা মাছ অবমুক্ত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল, শান্তিগঞ্জ হ্যাচারী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, শান্তিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ড. সুকুমার দাস, কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সুহাইল আহমদ, জামালগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনন্দা রাণী মোদক, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৌশিক সরকার, শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহমদ, অর্থ সম্পাদক সোহেল তালুকদার প্রমুখ।
কার্প হ্যাচারি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, হাওর এলাকায় মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। মাছ উৎপাদনে হাওর এলাকায় নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছেন। গত বছরের আকষ্মিক বন্যায় শান্তিগঞ্জ কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্সের প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চলতি বছর পোনা মাছ ও রেনু উৎপাদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৫৭০ কেজি মা মাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি বছর ২৪৫ কেজি রেণু ও ১০ লাখ পোনা মাছ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছ। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল ম-ল বলেন, লোকবল সংকট শুধু হ্যাচারিতেই নয় পুরো জেলাতেই লোকবল সংকট নিয়ে আমরা অফিস পরিচালনা করছি। ইতোমধ্যে মন্ত্রী, সচিব ও ডিজিকে লোকবল সংকট নিরসনের জন্য চাহিদা দেয়া হয়েছে। লোকবল সংকটের কারণে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনায় আমাদের হিমশিম খেতে হলেও আমাদের কাজ থেমে নেই। আশা করি কর্তৃপক্ষ মৎস্য খাতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নতুন করে লোকবল নিয়োগ দিয়ে সংকট নিরসন করবে।