শাপলায় জীবিকা

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনী তরকারি হিসাবেও সুস্বাদু। শাপলা কেউ খান শাখ করে, কেউ খান অভাবে পড়ে। অভাবগ্রস্থ বা নিতান্ত গরিব মানুষজন শাপলা তুলে নানা ধরনের খাবার তৈরী করেন। শহরের লোকজনও ২—৩ দিন শাপলা তরকারি খেয়ে থাকেন। সেই শাপলা কুড়িয়ে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অনেকেই আবার বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমি পানির নিচে থাকায় এই মৌসুমে কৃষকের তেমন কাজ নেই। তাই অনেক কৃষক বর্তমানে শাপলা বিক্রির পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। এতে কোন পঁুজির প্রয়োজন না থাকায় বিভিন্ন বয়ষের লোক এ পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে।
বর্ষায় বিভিন্ন ইউনিয়নে ডুবে যাওয়া পানিতে শাপলা প্রকৃতিগত ভাবেই জন্মে থাকে। তবে আগের মত শাপলা এখন মেলে না। এছাড়াও বিভিন্ন খাল বিলে সাদা এবং লাল শাপলা ফুটে থাকে। শাপলা সাধারনত জ্যৈষ্ঠ থেকে শুরু করে কার্তিক মাস পর্যন্ত পাওয়া যায় বলে জানায় তারা। শাপলা সংগ্রহকারীরা ভোর থেকে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে বিলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে শাপলা সংগ্রহ করেন।
জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের তেরানগর আব্দুল আহাদ জানান, শাপলা বিক্রি করে ভালোই চলছে তার সংসার। বিভিন্ন হাওর থেকে শাপলা কুড়িয়ে শাহজালাল, মতিন, সোবহান, কাশেম সহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোক এখন এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। বিনা পঁুজিতে শুধু একটি ছোট নৌকা ব্যবহার করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শাপলা কুড়িয়ে প্রতিদিন ৪শত’ থেকে ৫শত’ টাকা রোজগার করেন তারা। প্রতি আটি শাপলা ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা বিক্রি করা হয়।
তারা আরও জানান গত একমাস যাবত শাপলা কুড়িয়ে সংসার চালাচ্ছি। আর বোধ হয় ১ সপ্তাহ শাপলা তুলতে পারব, পরে পানি শুকিয়ে গেলে জমির মালিকরা জমিতে হাল চাষ শুরু করবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন জানান, জামালগঞ্জ বর্ষা মৌসুমে প্রায় অর্ধশতাধিক খান বিল জলাশয়ে শাপলা পাওয়া যায়। তবে আগের মত এখন আর শাপলা পাওয়া যায়না। অনেক কৃষকরা তাদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে শাপলা বাজারে বিক্রি করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে। শাপলা সবজি হিসাবে খুবই ভালো।
তিনি আরও জানান, সাদা শাপলা সবজি হিসাবে ও লাল শাপলা ঔষধী কাজে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ শাক—সবজির চেয়ে এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশী। শাপলায় রয়েছে প্রচুর পরিমানের ক্যালসিয়াম।