শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আজ

স্টাফ রিপোর্টার
পাঁচদিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা আজ সোমবার মহা ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদোৎসবের। দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে পূজা মন্ডপগুলো বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছে। এবার জেলায় ৪১৯টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনাপূজা করা হবে। বোধন দুর্গাপূজার অন্যতম আচার। শরৎকালের দুর্গাপূজায় বোধনের বিধান রয়েছে। বোধন শব্দের অর্থ জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্ত। পূজা শুরুর আগে বেলশাখায় দেবীর বোধন দুর্গাপূজার অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ। পুরাণ অনুসারে, রাক্ষসরাজ রাবণকে বধের উদ্দেশ্যে ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে দুর্গাপূজা করেন। অকালে দেবীকে তিনি বোধন করেন বলে একে অকালবোধনও বলা হয়। তবে বসন্তকালে চৈত্র মাসে যে দুর্গাপূজা তথা বাসন্তীপূজা অনুষ্ঠিত হয় তাতে বোধন করার প্রয়োজন হয় না।
আগামীকাল মঙ্গলবার মহামপ্তমী, বুধবার মহাষ্টমী, বৃহস্পতিবার মহানবমী এবং শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ৬ অক্টোবর দেবী দুর্গার আবাহন বা মহালয়ার মধ্য দিয়ে সূচনা হয় দেবীপক্ষের। সাধারণত দেবীপক্ষ শুরুর সাতদিন পর পাঁচদিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে থাকে। তবে এবার পঞ্চমীর বোধন ও ষষ্ঠী তিথি একইদিনে পড়ায় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর দিনক্ষণও একদিন এগিয়ে এসেছে। আজই সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙ্গার জন্য বন্দনা পূজা করা হবে।
তবে করোনার সংক্রমণ এড়াতে গতবছরের মতো এবারও সারাদেশের পূজামন্ডপগুলোতে বাড়তি সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দুর্গোৎসব আয়োজিত হবে। পূজার আয়োজনকে ঘিরে নানা বিধিনিষেধের কথাও জানিয়ে দেয়া হয়েছে এরইমধ্যে। গতবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজায় উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা যেমন থাকবে না, তেমনি বিসর্জনের শোভাযাত্রাও এবার হবে না।