শাল্লার সেই ইউএনও স্ট্যান্ডরিলিজ

স্টাফ রিপোর্টার, শাল্লা
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতি ও হাওর রক্ষা বাঁধের পিআইসি তালিকা গঠনে অনিয়ম ও জনমনে অসন্তোষের কারণে শাল্লা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মুক্তাদির হোসেনকে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসকের আদেশে এই রিলিজ করা হয়। জেলা প্রশাসক অবশ্য বলেছেন, স্ট্যান্ডরিলিজ নয়, যেহেতু তাকে নিয়ে জন অসন্তোষ আছে, এ কারণে বদলির আদেশ দ্রুত কার্যকর করা হয়েছে।
দিরাই উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) অরুপ রতন সিংহকে শাল্লার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের মার্চ মাসে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক দফায় দফায় তদন্ত করেন। তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণও মিলে।
সেই সময় দেশের ২২ জেলার ৩৬ উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিদর্শন দলের সদস্যরা। তাদের প্রতিবেদনেও শাল্লায় ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও অবহেলার চিত্র ওঠে আসে।
এই দুর্নীতির তদন্ত শেষ হতে না হতেই শাল্লা বাজারে ভিটে বন্দোবস্তের নামে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে তাঁর (ইউএনও’র) বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলার ৪ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসক বরাবরে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্ত করতে শাল্লায় আসেন এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি দিনভর অভিযোগকারীদের উপস্থিতিতে শাল্লা ইউএনও’র কার্যালয়ে তদন্ত সম্পাদন করেন।
শাল্লার বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদীর হোসেনকে এই বিষয়ে কথা বলার জন্য ফোন দিয়ে পরিচয় দিতেই তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন। এরপর আর ফোন রিসিভ করেন নি তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ইউএনও আল মুক্তাদীর হোসেন এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪ টা) শাল্লায়ই আছেন। রোববার তিনি শাল্লা ছাড়বেন।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শাল্লার ইউনও’এর বদলির আদেশ আগেই হয়েছিল। যেহেতু তার বিরুদ্ধে জন অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, এজন্য দ্রুত রিলিজ দেওয়া হয়েছে তাকে। শাল্লার অতিরিক্ত দায়িত্ব দিরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমিকে দেওয়া হয়েছে।