শাল্লায় বন্যার ভয়াবহতা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে

পি সি দাশ, শাল্লা
ভাটির উপজেলা শাল্লায় বন্যার ভয়াবহতা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে উপজেলায় সদর সহ ৬ দিন যাবত যোগাযোগ ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে রয়েছে। উজানের ভারতের মেঘালয়-চেরাপুঞ্জির বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার প্রায় ৯৭ ভাগ গ্রাম ডুবিয়েছে।
নেই বিদ্যুৎ নেই যোগাযোগ ব্যবস্থা, দ্রব্য মূল্যের দাম দ্বিগুণ সহ অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়েছে এই হাওরপাড়ের মানুষ। প্রয়োজনের তাগিদে মোবাইল ব্যবহার করতে লাইন দিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে ৫০/৬০ টাকা দিয়ে চার্জ করাচ্ছে অনেকেই। আবার অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ও মানুষের ভিড়ের কারণে মোবাইল চার্জ করতে পারছেনা । এমন দৃশ্য আনন্দপুর বাজারে রবিবার সন্ধায় দেখা যায়।
একদিকে পানি বৃদ্ধি অন্য দিকে মুষলধারে বৃষ্টির ফলে মানুষ দিশেহারা । কৃষকের ধানের গোলা,গোখাদ্য খড় সব কিছু এখন পানির ৩/৪ ফুট পানিতে নিমজ্জিত। আবার ক্ষতির মুখে পরেছে মৎস্য চাষিরা। উপজেলার প্রায় ৬০/৭০ টি পুকুরের মাছ বন্যায় ভেঁসে গেছে। বহু মুরগির খামার বিনষ্ট হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার। বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। উপজেলা আনন্দপুর গ্রামের বিকাশ চক্রবর্তী ফোনে জানালেন, শাল্লা সদর সহ প্রত্যেকটি গ্রাম বন্যার আক্রান্ত । উপজেলার কয়েক শত পরিবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। বহু মাছ চাষের পুকুর তলিয়েছে। হাটবাজার তলিয়ে যাওয়ার ফলে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, সব মিলিয়ে ভয়াবহ চিত্র। গবাদি পশু নিয়ে আরো বড় রকমের সমস্যায় রয়েছে ভানবাসী মানুষ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু তালেব জানালেন শাল্লায় ছোট বড় মিলিয়ে ৭০ টি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানান, ত্রাণের জন্য ৩০ মেঃট চাউল ও ২ লাখ টাকা আছে তাঁর কাছে। এদিয়েই তিনি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আরো ত্রাণের জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান।