শাল্লায় শিলাবৃষ্টিতে লাখো কৃষকের ক্ষতি

পি সি দাশ পীযূষ, শাল্লা
শাল্লায় মৌসুমের প্রথম হওয়া শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধান ও সবজী ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর রাতে এই শিলাবৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোর রাত ৩ টা ২৮ মিনিট থেকে ৮ থেকে ১০ মিনিট ব্যাপি হওয়া শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার ছায়ার হাওর ও কুশিয়ারা নদীর ডানতীরের ভেড়াডহর হাওরের ধান ও সবজীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকায় জেলার দিরাই উপজেলার একটি অংশের এবং নেত্রকোণার কালিয়াজুরি উপজেলার কৃষকদেরও জমি রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, শিলাবৃষ্টিতে তোড় আসা ধান গাছ একেবারে শুয়ে পড়েছে। সবজী ক্ষেতে থাকা লাউ, টমেটো থেতলে গেছে। কৃষকদের মতে কমপক্ষে দুই হাজার হেক্টর ধান ক্ষেত এবং ৫০০ হেক্টরের মতো সবজী ক্ষেত শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


ছায়ার হাওরপাড়ের আটগাঁও ইউপির দাউদপুর, উজানগাঁও, মামুদনগর, গঙ্গানগর, কুশিয়ারা নদীর ডান তীরের প্রতাপপুর, ভেড়াডহর, নাসিরপুর, এয়ারাবাজ, রামপুর, ছব্বিশা, মন্নানপুর, শান্তিপুর, বাহাড়া, যাত্রাপুর, কান্দকলা, কলাকান্দি, ছায়ার হাওরের হরিপুর, নাইন্দা, মুক্তারপুর, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও, শাল্লা সদর, সুলতানপুর, রঘুনাথপুর, সুখলাইন, আঙ্গাউড়া, নোয়াগাঁও, ডুমরা, বাগেরহাটি, হরিনগর, মন্নানপুর, হরিপুর, খল্লী, বাহাড়া, আনন্দপুর, নিয়ামতপুর, চরগাঁও, শাল্লা ইউপির নাছিরপুর, ইয়ারাবাদ, চব্বিশাা, দামপুর,শান্তিপুর, গ্রাম শাল্লা, দিরাই উপজেলার জয়পুর, নৌলারচর, শ্যমারচর, পেরুয়া, উজানগাঁও, দৌলতপুর, শশারকান্দা, মামুদনগর, গঙ্গানগর এবং নেত্রকোণা জেলার কালিয়াজুরি, কৃষ্ণপুর, আমানিপুর ও নাজিরপুর এলাকার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই গ্রামগুলোর লাখো কৃষকের স্বপ্ন ভেঙেছে শিলাবৃষ্টিতে।
উপজেলার আনন্দপুরের কৃষক বিকাশ চক্রবর্তী বললেন, ‘এক একর জমিতে মিষ্টি কুমরা, ১৫ শতাংশ জমিতে বেগুন, ১ বিঘা জমিতে সূর্যমূখী এবং আরও প্রায় এক একর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজী চাষ করেছিলাম। জমিতে ২-৩ হাজার মিষ্টি লাউ ছিল। শিলাবৃষ্টিতে এসব লাউ টুকরো টুকরো হয়ে গেছে, কোনটার চামড়া ওঠে গেছে। সূর্যমূখীর গাছ মাঝখানে ভেঙে গেছে। টমেটো, বেগুনসহ, কাছা মরিছের গাছ মাটিতে মিশে গেছে। ধানের তোড় আসা ধানের গাছগুলোকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে শিলাবৃষ্টি।
বিকাশ চক্রবর্তী জানালেন, সবজী ক্ষেত থেকে প্রতি বছর দুই আড়াই লাখ টাকা আয় হয় তার। এবার লাভ দূরের কথা, যে টাকা খরচ হয়েছে, সেটাই তুলতে পারেন নি।
আনন্দপুরের ধীরেজ বিশ^াস এবং নোয়াগাঁওয়ের সুরজিত সুত্রধর বললেন, গত কয়েক বছর হয় এই সময়ে এভাবে শিলাবৃষ্টি হতে দেখেন নি তারা।


জেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল হাসান জানান, শাল্লায় শিলাবৃষ্টিতে ধানের ও সবজির ক্ষতি হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাসকে সরেজমিনে পাঠানো হয়েছে।
শাল্লা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস বললেন, শাল্লায় ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য দেওয়া যাবে না। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কষ্ট হবে কৃষকদের।
শাল্লা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, রবি শস্যের তেমন ক্ষতি হয়নি। কারণ অনেক কৃষক ফসল তোলেছেন। বোরো ধানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে আর শিলাবৃষ্টি না হলে ধান হয়ে যাবে। ধানের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান প্রায় ১০০ হেক্টর হতে পারে বলে জানান তিনি।