‘শিক্ষার হারে পিছিয়ে সুনামগঞ্জ’

স্টাফ রিপোর্টার
দেশে শিক্ষার অগ্রগতি হচ্ছে। তবে সিলেটের চেয়ে শিক্ষার হারে পিছিয়ে রয়েছে সুনামগঞ্জ। শিক্ষার হার বাড়াতে বাড়ি থেকে খুঁজে নিয়ে আসতে হবে শিক্ষার্থীদের। দেশে লেখাপড়ার পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক ভাল। সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে আসার পথে দেখা গেছে সড়কের দুই পাশে সুন্দর সুন্দর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্রতার হার কমছে। সুনামগঞ্জে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়ে ভাল।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সুনামগঞ্জের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপ-সচিব মো. মাহফুজার রহমান, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম, পৌর মেয়র নাদের বখত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অসীম চন্দ্র বনিক।
ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কাজ করায় খুব আনন্দ, কিন্তু স্বাদ আলাদা। এখানকার মানুষ শান্তিপ্রিয়। নির্বাচনও হয় শান্তিপূর্ণভাবে। সবার সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। আগামী নির্বাচনও আশা করি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সেই জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেট বিভাগ পর্যটন সম্ভাবনাময়ী অঞ্চল। প্রত্যেক জেলার পর্যটন এলাকার যথাযথ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। হাওর এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়নেও কাজ করতে হবে সকলে। খুঁজে বের করতে হবে কি কি উন্নয়ন করা যায় হাওর এলাকায়। হাওর এলাকায় যদি পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার পরিবেশ সম্মত সুব্যবস্থা করা যায়, হোটেল মোটেল তৈরি করা যায়, তবে এই এলাকার বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ হয়েছে অল্প দিনে। মৃত্যুর হারও কম। আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে। সকল শিক্ষার্থী যেন টিকা গ্রহণ করতে পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল প্রায় সময় বন্যায় তলিয়ে যায়। ফসল রক্ষায় নির্মিত বেড়িবাঁধ সঠিক স্থানে ভাল করে নির্মাণ করতে হবে। হাওরের বাঁধ নির্মাণে দায়িত্বশীল হতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণে কোনো প্রকার গাফিলতি করতে পারবে না।
মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. আশরাফুল হক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম, অ্যাড. শাহানা রব্বানী, দৈনিক সুনামকণ্ঠ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সাংবাদিক লতিফুর রহমান রাজু।