শিক্ষায় এগিয়ে মিজানুর, সম্পদে আক্তার

স্টাফ রিপোর্টার
জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন ৫ প্রার্থী। আওয়ামীলীগের মনোনীত মো. মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া (নৌকা), বিএনপি মনোনীত মো. হারুনুজ্জামান (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিষ্ণু চন্দ্র রায় (জগ), মো. আক্তার হোসেন (ব্যাডমিন্টন) ও মো. আমজাদ আলী শফিক (মোবাইল ফোন) প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন ।
আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মো. মিজানুর রশীদ ভূঁইয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি, বিএনপি মনোনীত মো. হারুনুজ্জামান স্বশিক্ষিত স্বতন্ত্র প্রার্থী বিষ্ণু চন্দ্র রায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আক্তার হোসেন স্বশিক্ষিত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমজাদ আলী শফিক অষ্টম শ্রেণি পাশ।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী ৫ জন মেয়র প্রার্থীর কেউই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোন ঋণ গ্রহণ করেননি। কারও কোন দায় ও দেনা নেই। এছাড়াও কেউই বর্তমানে ফৌজিদারী মামলায় অভিযুক্ত নন। অতীতেও ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে কোন ফৌজিদারী মামলা হয়নি। তারা হলেন মো. মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া, মো. হারুনুজ্জামান, বিষ্ণু চন্দ্র রায়, মো. আমজাদ আলী শফিক। একমাত্র মো. আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা হয়েছিল। এরমধ্যে জগন্নাথপুর আমল আদালতে ৪টি মামলা প্রত্যাহার, একটিতে খালাস এবং একটিতে তিনি চূড়ান্ত রিপোর্ট গ্রহণ পূর্বক অব্যাহতি পেয়েছেন।
হলফনামায় তথ্যে সম্পদের মূল্য উল্লেখ অনুযায়ী সম্পদে এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আক্তার হোসেন। তার সম্পদ রয়েছে ২৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার। এছাড়াও মো. মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, মো. হারুনুজ্জামান ২ লক্ষ টাকা, বিষ্ণু চন্দ্র রায় ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকা এবং মো. আমজাদ আলী শফিক’র ১৬ লক্ষ ০৪ হাজার ২০০ টাকার সম্পদ রয়েছে।
হলফনামায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী মো. মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া পেশা কৃষি খাত থেকে বাৎসরিক আয় ১ লক্ষ টাকা, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হারুনুজ্জামান কৃষি খাত থেকে বাৎসরিক আয় ৫০ হাজার টাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিষ্ণু চন্দ্র রায় ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আক্তার হোসেন ব্যবসা (কনসালটেনসি) থেকে বাৎসরিক আয় ১ লক্ষ এবং বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমজাদ আলী শফিক (ব্যবসা) মেসার্স আমজাদ আলী এন্টারপ্রাইজ, সুনামগঞ্জ থেকে বাৎসরিক আয় ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা আয় উল্লেখ করেছেন।
আওয়ামীলীগের প্রার্থী মো. মিজানুর রশীদ ভূঁইয়ার হলফনামার উল্লিখিত তথ্যে অনুযায়ী অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ ১ লক্ষ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৫০ হাজার টাকা, ১ টি মোটর সাইকেল, ৫ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ টি ফ্রিজ, ১টি টেলিভিশন, আসবাবপত্রের মধ্যে রয়েছে ১ টি পালং, ১টি আলনা, ১টি সোকেস ও ১টি সোফা সেট।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে যৌথ মালিকানায় ২৪ কেদার কৃষি জমি।
বিএনপি’র প্রার্থী মো. হারুনুজ্জামান নিজ নামে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১ লক্ষ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে ২টি রঙিন টিভি ও ১টি ফ্রিজ, আসবাবপত্রের মধ্যে ৪টি পালং, ২০টি চেয়ার, ডাইনিং টেবিল ২টি, আলনা ২টি, ২টি সোফা অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে যৌথ মালিকানায় ৩ একর কৃষি জমি ও যৌথ মালিকানায় ২.৭ একর জায়গায় বাড়ি/এপার্টমেন্ট রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী বিষ্ণু চন্দ্র রায়’র অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১০ হাজার টাকা, অলংকারাদি ১ লক্ষ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৫০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আক্তার হোসেন হলফনামায় নিজ নামে নগদ ৮০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ২০ হাজার টাকা, সাইকেলসহ যানবাহন ইত্যাদি ৫০ হাজার টাকার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লক্ষ টাকা, আসবাবপত্র ১ লক্ষ টাকা এবং নিজ ও স্ত্রীর নামে ১ লক্ষ টাকার অলংকারাদি অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়াও স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৯ শতক কৃষি জমি, ৩ তলা দালান ২০ লক্ষ টাকা। যৌথ মালিকানায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত দোকান কোঠা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমজাদ আলী শফিক’র অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ ৪ লক্ষ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লক্ষ টাকা, আসবাবপত্র ১ লক্ষ টাকা, নিজ ও স্ত্রীর নামে বৈবাহিত উপহার ৭ ভরি স্বর্ণ। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে অকৃষি জমি, যার মূল্য ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ২০০ টকা, দালান ৬ লক্ষ টাকা।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ জানুয়ারি প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জগন্নাথপুরে গত ১১ জানুয়ারি পৌরসভার মেয়র আবদুল মনাফ মৃত্যুবরণ করলে পৌরসভার উপ-নির্বাচন ঘোষণা হয়। তফসিল অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারি মনোয়নপত্র দাখিল করে ভোটযুদ্ধে নামেন চার প্রার্থী। এই চার প্রার্থীর ৩ জনেই যুক্তরাজ্য থেকে এসে মনোয়ন জমা দিয়েছিলেন। ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন সামনে রেখে প্রচারণা শুরু করেছিলেন প্রার্থীরা। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ২১ মার্চ ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। প্রায় সাড়ে ৬ মাস পর গত ১০ অক্টোবর পৌরসভার ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া স্বতন্ত্র প্রর্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল হোসেন সেলিম কে পরাজিত করে বিজয়ী হন।