শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে/ এই সপ্তাহে চার শিশু ধর্ষণের শিকার

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে গত কয়েকদিনে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। গেল এক সপ্তাহে চার শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং এইমাসে (১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সব মিলিয়ে সাত শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার নিন্দা জানানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও। শনিবার দুপুরে শহরে নারী নির্যাতন ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটি শিশু ধর্ষণ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণের অভাবে, আইনী সহায়তা পাচ্ছে না ধর্ষিতার পরিবার।
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ারে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে এক শিশুর বাবা বলছিলেন, ‘আমার ছয় বছরের মেয়েরে ৫০ বছরের অমানুষ খারাপ কাজ করছে, ঘরও রক্ত পড়ছে, প্রশ্রাবের পথে যন্ত্রণা ওর, তারা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) কয় কোনতাঔ অইেছে না, হাসপাতাল থাকি বিদায় দিলাইছে, পরে কোর্ট থাকি টুকা দিয়া কইছে হাসপাতালে যাইবার লাগি, এরপরে আরেকবার হাসপাতাল ভর্তি করাইছি, এখনও মেয়েটা হাসপাতালে আছে, ডাক্তারে কইছইন কোনতা অইছে না, আমি ঘটনার বিচার চাই।’
ছয় বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় হওয়া মানবন্ধনে নিজের সন্তান ধর্ষণের ঘটনা এভাবে জানাচ্ছিলেন দিনমজুর এক বাবা।
নারী নির্যাতন ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটি আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নারী অধিকার কর্মী তৃণা দাস, রাশেদা বেগম, শরীফা আশরাফি, দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র, যুবনেতা আবু তাহের, নারীনেত্রী দিলারা বেগম, সঞ্চিতা চৌধুরী, লেখক সুখেন্দু সেন, জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী গৌরী ভট্টাচার্য প্রমুখ।
বক্তারা জানালেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। ঘটনার পর পুলিশ মামলা নিলেও নানা কারণে ভিকটিম বিচার পাচ্ছে না। হাসপাতালে ডাক্তারী রিপোর্টের জন্য গেলে বলা হচ্ছে, ‘কোনতা অইছে না’ এই অবস্থায় ভিকটিম বিচার পাচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগের দায়িত্বশীলরা জানান, ১০ সেপ্টেম্বর থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাসপাতালে সাত শিশু ধর্ষণের ডাক্তারী পরীক্ষা হয়েছে। এরমধ্যে দিরাই উপজেলার ধল ও আনোয়াপুরে দুটি, দোয়ারাবাজারের বাজিতপুর ও লক্ষীপুরে দুটি, সদর উপজেলার হালুয়ারগাঁও ও হুসেনপুরে দুটি এবং জামালগঞ্জের ভীমখালীতে একটি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধান ডা. লিপিকা দাস বললেন, এই সপ্তাহে সাত শিশু ধর্ষণের ডাক্তারী পরীক্ষা হয়েছে। এরমধ্যে একটি কেবল পজিটিভ পাওয়া গেছে। অন্যগুলোও ঘটনা হয়তো সত্য, ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু সেভাবে আলামত না পাওয়ায় আমরা সেটি প্রমাণ করতে পারি নি। এক্ষেত্রে মামলা অবশ্যই চলবে। ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ হবে আদালতে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. সুমন মিয়া বললেন, আমরা অপেন হাউস ডে, বিট পুলিশিং সভা, কমিউনিটি পুলিশের সভায় বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং প্রতিরোধ ও শিশু ধর্ষণ, নারী ধর্ষণের বিরুদ্ধে কথা বলি। ধর্ষণের ঘটনায় আমাদের অবস্থান জিরো ট্রলারেন্স। পুলিশ সুপারসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেয়া আছে। এধরণের ঘটনায় কোনো শিথিলতা নেই বরং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘটনা শুনার সাথে সাথেই ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো, পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করানোসহ আসামী গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। ভিকটিম না আসলে ভিকটিমের বাড়ী যেতে হবে মামলা গ্রহণের জন্য। এসপি স্যার বলে দিয়েছেন, ভিকটিম যদি থানায় না আসতে পারে ,তাহলে আমরা ভিকটিমের কাছে যাবো। ভিকটিমের আসার প্রয়োজনীয়তা নেই। থানার ওসিদের বলা হয়েছে তারা যেনো ভিকটিমের কাছে চলে যায়। তিনি জানান, এই সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। সবকটিই মামলা নেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে।