শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কেউ কোনো বিশেষ সুবিধা পাবেন না: ওবায়দুল কাদের

সু.খবর ডেস্ক : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ কোনো বিশেষ সুবিধা পাবেন না। তিনি বলেছেন, দলীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কেউই আওয়ামী লীগে অপরিহার্য নন।

সম্প্রতি নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী ও সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেছেন, কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যে কোনো সিদ্ধান্ত দলীয় সভাপতি নিতে পারবেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ঊর্ধ্বে কেউ নন। দল করলে সবাইকে দলের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।

বুধবার আওয়ামী লীগ সরকারের টানা এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি আয়োজিত শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র ও করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতার কারণেই গত এক যুগে দেশ উন্নয়ন-অগ্রগতির সব সূচকে যুগান্তকারী মাইলফলক স্পষ্ট করেছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভায় উন্নয়নের রোল মডেল; অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সূচকেই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশকে ছাড়িয়ে অগ্রগতির অভূতপূর্ব স্মারক বহন করছে। তিনি বলেন, করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে অনুকরণীয় রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা, সাহসিকতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠা আজ বিশ্বনন্দিত।

সেতুমন্ত্রী বলেন, পাট রপ্তানিতে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে প্রথম। ইলিশে প্রথম, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় এবং চাল উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অনবদ্য অবদান রেখে চলছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে অতীতের অবিশ্বাসের কৃত্রিম দেয়াল ভেঙে নির্মিত হয়েছে সম্পর্কের নতুন সেতুবন্ধ। সমাধান হয়েছে দীর্ঘদিনের ছিটমহল বিনিময় কার্যক্রম।

তিনি বলেন, যোগাযোগ খাতে রীতিমতো বিপ্লব সাধিত হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। শতভাগ বিদ্যুৎ, পায়রাবন্দর, মাতারবাড়ী প্রকল্প, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বছরের প্রথম দিনে পাঠ্যপুস্তক উৎসব প্রধানমন্ত্রীর অবদান। শেখ হাসিনার হাত ধরেই মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল ও এলিভেটেড এপপ্রেসওয়ে নির্মাণাধীন। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

সূত্র : সমকাল