শেষ মুহূর্তে আছে উৎকণ্ঠাও

বিশেষ প্রতিনিধি
সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশস্থল সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ। এক পাশে একটিই সড়ক। নগরীর কেন্দ্রস্থলের চৌহাট্টা ও রিকাবিবাজার পয়েন্টের সঙ্গে যুক্ত সড়কটি ব্যবহৃত হচ্ছে প্রচারণায়। দুই পয়েন্ট ঘিরে গণসমাবেশের নজরকাড়া প্রচারণা।
বিলবোর্ড, ব্যানার ফেস্টুনে সয়লাব পুরো এলাকা। এরমধ্যে বিশেষায়িত হাসপাতাল শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের সম্মুখভাগ পুরোটা ঢাকা পড়েছে প্রচারণার ব্যনার-ফেস্টুনে। একই জায়গা সপ্তাহ দিন আগে ছিল আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিসভার প্রচারণা। আওয়ামী লীগের নেতাদের নামে যে সকল বিলবোর্ড ছিল, সেখানে সাঁটানো হয়েছে বিএনপি নেতাদের বিলবোর্ড। আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনীতিতে সহবস্থানে এমন প্রচারণা স্বস্তির হলেও তলে তলে ছিল সমঝোতা। বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য পদে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী শাসকদলের একটি অংশের সঙ্গে সখ্যতা থাকায় সমঝোতা করে গণসমাবেশের প্রচারণা চলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সমঝোতা করে প্রচারণা শুরু হলেও শেষ দিকে ভর করছে উৎকণ্ঠা। সমঝোতার পথে কাঁটা হয়ে বিধছে উপজেলা সদরগুলোর উত্তপ্ত অবস্থা। মঙ্গলবার বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের হামলায় বিএনপির প্রচারণা প- হয়েছে। একই দিন ওসমানীনগরে বিএনপির
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর প্রচারণায় হামলার অভিযোগ ওঠেছে। এ দুই ঘটনার পর সমঝোতায় কাঁটা হয়েছে বিধেছে পরিবহন ধর্মঘট। শনিবার সকাল-সন্ধ্যা সিলেটে পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা
দিয়েছে পরিবহন মালিক শ্রমিক সমিতি। এতে করে তলে তলে সমঝোতার পথ কতটা মসৃন থাকে, এ নিয়ে বিএনপিতে সংশয় দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ও বিকেলে দুই দফা সিলেট নগরীর চৌহাট্টা ও রিকাবিবাজার
পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে কোনো জায়গা আর ফাঁকা নেই। বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড থেকে শুরু
করে সড়ক বিভাজক ছেয়ে গেছে ব্যনার-ফেস্টুনে। আম্বরখানা, মীরবক্সটুলা, জিন্দাবাজার ও রিকাবিবাজার সড়ক মিলিত হয়েছে চৌহাট্টা পয়েন্টে। এক পাশে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। নগরীর মূল কেন্দ্রস্থলের চৌহাট্টা পয়েন্টে আটটি বিজ্ঞাপন বোর্ডের অধিকাংশ সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যানার। এরমধ্যে ছয়টি ছিল আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিসভা উপলক্ষে ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা। সেগুলোর ওপর সাঁটানো হয়েছে বিএনপির গণসমাবেশের প্রচারণা। চৌহাট্টা থেকে রিকাবিবাজার সড়ক ধরে এগিয়ে দেখা গেছে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের সম্মুখ অংশ পুরোটা ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা। একইভাবে রিকাবিাজার পয়েন্টে কাজী নজরুরল চত্বর, অডিটোরিয়ামেরও একই অবস্থা।
চৌহাট্টা, হাসপাতাল ও সমাবেশস্থলের আশপাশ এলাকায় দেখা গেছে, চৌহাট্টা থেকে
রিকাবিবাজার কবি নজরুল চত্বর পর্যন্ত বিলবোর্ড-ফেস্টুনে সয়লাব। চৌহাট্টা থেকে
কবি নজরুল চত্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকে লাগানো
সৌন্দর্যবর্ধনের গাছে পেরেক মেরে ঝোলানো হয়েছে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর ফেস্টুন।
অন্যদিকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের সম্মুখভাগের পুরো অংশ ঢাকা পড়েছে
বিলবোর্ডে। হাসপাতালের দেয়ালের সঙ্গে বাঁশ বেঁধে বিলবোর্ড ও ফেস্টুনে স্থানীয়
নেতা থেকে শুরু করে প্রবাসী নেতা-কর্মীদের ছবি আছে।
স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিলবোর্ডে এক
সপ্তাহ আগেও আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রচারণার নানা রকম ব্যানার-ফেস্টুন দেখা
গেছে। এগুলো অপসারণ করে সাঁটানো হয়েছে বিএনির প্রচারণার ব্যনার-ফেস্টুন।
রিকাবিাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেছেন, সর্বশেষ ২০১২ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাবেশ উপলক্ষে এমন প্রচারণা তারা দেখেছিলেন। এরপর প্রায় ১০ বছর বিরতি দিয়ে এমনটি দেখেছেন। বিস্ময়ের সুরে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘অন্য বার তো আওয়ামী লীগের ব্যানারের সরালে রক্তারক্তি কা- ঘটত। ই-ফিরা কোনো নড়াচরা নাই। অবস্থা এমন যে, বিলবোর্ড-ফেস্টুন দেখে বোঝাও যায় না এটা আওয়ামী লীগ না বিএনপি! মাইকে জিয়া-তারেকের ভাষণ প্রচার হচ্ছে বিনা বাধায়। তলে তলে যে সমঝোতা অইছে, প্রচার দেখেই ক্লিয়ার বোঝা যার!’
জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বললেন, সমঝোতার কোন বিষয় নয়। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচীতে সকলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সিলেট নগরে এখনো পর্যন্ত থেমন কোন ঘটনা ঘটে নি। বিভিন্ন উপজেলায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের আশপাশে কারো ব্যানার ফেস্টুন ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, শূন্যস্থানে বিএনপির সমাবেশের ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ করেছেন নেতা কর্মীরা।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বললেন, বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার কোন বিষয় আমাদের নেই। সিলেটের রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশের অন্যান্য স্থানের থেকে অভিন্ন। বিশেষ করে সরকারে যারা থাকেন, তারা সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করেন। কিন্তু বিএনপি প্রতিহিংসা পথ বেছে নিচ্ছে। তাদের এক নেতা ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বে খুন হয়েছে। দুইপক্ষেই আহত হয়েছে। এই ঘটনায় তারা আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভার সময় লাগানো ব্যানার ফেস্টুন ভাংচুর করেছে। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে কোন মিমাংসা সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চয়ই গ্রহণ করবে। পরিবহনে বিভিন্ন দলের মতের মানুষ আছেন। ধর্মঘটে সাধারণ মানুষও বিড়ম্বনায় পড়ে। কিন্তু অতীতের জ¦ালাও পুড়ায়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে নিশ্চয়ই পরিবহন মালিক শ্রমিকরা ধর্মঘটে গেছেন। মেয়র আরিফুল হকের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, সিলেটে সরকারের নানা উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। প্রধানমন্ত্রী সিলেট যখন এসেছিলেন, তখনো মেয়র আরিফকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকায় তাঁর সঙ্গে এই যোগাযোগ।
মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ফোন না ধরায় এই প্রসঙ্গে তার বক্তব্য নেওয়া যায় নি।