শ্রীলঙ্কা সফরের পর ডিপিএল-বিপিএল

অনুশীলন করতে এসে শ্রাবণের অঝোর ধারায় মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সিক্ত হচ্ছেন মুশফিকুর রহিম
সু.খবর ডেস্ক
একের পর এক দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বাতিল হলেও টি২০ এশিয়া কাপ এবং টি২০ বিশ্বকাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ আগেই স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে টি২০ বিশ্বকাপ। এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ বাতিলের প্রভাব একটু হলেও পড়বে। তবে বিশ্বকাপ পিছিয়ে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার দ্বার খুলে গেছে টাইগারদের সামনে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান, শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে শিগগিরই খেলায় ফিরবে বাংলাদেশ। ডিপিএল, বিপিএলও আয়োজন করতে চায় এ বছর।

টি২০ বিশ্বকাপের আর্থিক প্রভাব

অবশ্যই এটার একটা প্রভাব আছে। তবে বড় ধরনের প্রভাব এ মুহূর্তে হচ্ছে না। কারণ বিশ্বকাপ পুনর্বিন্যাস করে গতকাল (সোমবার) অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি। ইভেন্টগুলোর মিডিয়া স্বত্বও বিক্রি করা আছে। পরে যেসব প্রাসঙ্গিক ব্যয় সংযোজন হবে সেটা অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে বহন করতে হতে পারে। যেমন কোয়ারেন্টাইন, বায়ো সিকিউরিটি এবং চার্টার্ড ফ্লাইটের প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত খরচ হবে। এ ধরনের অতিরিক্ত খরচ হলে সদস্য দেশগুলোকে ভাগ করে নির্বাহ করতে হবে। ইভেন্টগুলো হওয়ার পর আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলালে জানা যাবে কতটা কম পেলাম। এটা নির্ভর করবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর।

বার্ষিক রেভিনিউ শেয়ার

বার্ষিক রেভিনিউ কাটা হচ্ছে না। যেভাবে বণ্টন করা হয়েছিল সেটা বহাল রেখেছে আইসিসি। বার্ষিক বরাদ্দকৃত রেভিনিউর অর্ধেক জানুয়ারিতে দেওয়া হয়। বাকি অর্ধেক দেয় বছরের মাঝামাঝি সময়ে (জুন-জুলাই)। ২০২০ সালের প্রথম কিস্তির টাকা জানুয়ারিতে পেয়েছি। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কিছুদিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে, প্রক্রিয়াধীন আছে।

এশিয়া কাপ

এশিয়া কাপ এ বছর হলে আড়াই মিলিয়ন ডলার পাওয়া যেত। করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের এশিয়া কাপ হবে ২০২১ সালে। আর ২০২২ সালেরটা ঠিক থাকবে। টি২০ বিশ্বকাপের সঙ্গে সমন্বয় করে দুটি এশিয়া কাপ টি২০ হবে। ২০২৩ সালে হতে পারে ওয়ানডে এশিয়া কাপ।

হোম সিরিজের ক্ষতি

আমাদের দুটি হোম ও দুটি অ্যাওয়ে সিরিজ বাতিল হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট হতো হোম সিরিজে। নিউজিল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ দুটি লাভজনক না। ব্রেক ইভেনে থাকে। এ দুটি সিরিজ না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না। মূল ক্ষতি হচ্ছে একদমই ক্রিকেট না থাকা। সেটাই আমাদের কাছে বড় ক্ষতি। পৃথিবীর কোনো দেশই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছে না।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন

আমরা এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কা সিরিজ খেলতে চাই। যেহেতু শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি ভালো, সেখানে খেলা যেতে পারে। সেরা বিকল্প শ্রীলঙ্কা সফর। আর আয়ারল্যান্ড বোর্ডকে রাজি করানো গেলে ভালো হবে। আয়ারল্যান্ডের করোনা পরিস্থিতি এবং যে সময় তারা হোস্ট করতে পারবে তখন আবহাওয়া কেমন থাকে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।

নিউজিল্যান্ডকে না টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ বছর অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডে তিনটি টি২০ ম্যাচ খেলার কথা ছিল। এই ম্যাচ তিনটি ছিল অতিরিক্ত। বিশ্বকাপ পিছিয়ে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ড সফরেও যাব না। বিশ্বকাপের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী বছর নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে দল।

সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কা সফর

এ মুহূর্তে আমি সময় উল্লেখ করতে চাচ্ছি না। তবে ওরা কখন স্লট দিতে পারবে, আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত হয়ে যেতে পারব, সে অনুযায়ী সূচি ঠিক করা হবে। অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার অন্য কমিটমেন্ট আছে। সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করব আগে আগে যেতে। কারণ আমাদেরও ঘরোয়া ক্রিকেট দ্রুত শুরু করতে হবে। আন্তর্জাতিক সূচি নিশ্চিত হওয়ার পর ঘরোয়া খেলার সময় ঠিক করে ফেলব। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। আমরা আমাদের সুবিধামতো সময় দেখছি। শ্রীলঙ্কা সিরিজ শেষ করে ঘরোয়া সিরিজ শুরু করার টার্গেট। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে অক্টোবরে ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করা যাবে।

ডিপিএল-বিপিএল

প্রথমে ডিপিএল, এরপর বিপিএল। ডিপিএলের জন্য ক্লাবগুলোর সঙ্গে কথা বলতে হবে। খেলোয়াড়রা চায় ডিপিএল দিয়ে ক্রিকেটে ফিরতে। কিছু কিছু ক্লাব ইতোমধ্যে ২৫ থেকে ৩০ ভাগ সম্মানী দিয়ে ফেলেছে। সবদিক থেকেই জোরালো ভূমিকা নিলে ডিপিএল সীমিত পরিসরে করা যেতে পারে।
সূত্র : সমকাল