সংকটকালে মানুষের পাশে নেই অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুরু করেছিলেন প্রচারণা, পোস্টার সাটানো, লিফলেট বিতরণসহ নানাভাবে নিজেদের প্রার্থীতার কথা জানান দিচ্ছিলেন তারা। ঘরে ঘরে গিয়ে কুশল বিনিময়সহ মানুষের সুখ-দু:খের খবর নিচ্ছিলেন অনেক প্রার্থী। এপ্রিল-মে মাসেই হবার কথা ছিল সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। সুনামগঞ্জের ছাতকের তিন ইউনিয়নের নির্বাচনের তারিখ ছিল ১১ এপ্রিল। সকল নির্বাচন স্থগিত ঘোষণাকালে এই তিন ইউনিয়নের ভোট গ্রহণও স্থগিত হয়। করোনার সংক্রমণ বাড়ায় লকডাউন চলছে। বিপদগ্রস্ত হয়ে আছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। এই সময়ে সম্ভাব্য ইউপি নির্বাচনের অনেক প্রার্থীকেই খুঁজে পাচ্ছেন না সাধারণেরা।
গেল মার্চে সুনামগঞ্জের অনেক ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদ শেষের আগে নির্বাচন করার কথা থাকলেও করোনার কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে পারেনি।
ভোট পেছানোয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণাও কমে গেছে গ্রামে-গঞ্জে। সংকটকালে সম্ভাব্য এসব প্রার্থীদের কুশল বিনিময়েও দেখছে না কেউ।
বিশ^ম্ভরপুরের পলাশ ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রণব দাস বললেন, মনে হচ্ছে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও লকডাউনে গেছেন। কেউ এসে ধান কাটারও খবর নিচ্ছেন না। লকডাউনে মানুষ কিভাবে আছে সে খবর নেবার জন্যও দেখা যাচ্ছে না কাউকে।
জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের খোকন মিয়া বললেন, দোয়া ও আর্শীবাদ প্রত্যাশীরা এখন মাঠে নেই, ধান কাটা মাড়াই নিয়ে কৃষকরা সমস্যায় আছে কী-না, কিংবা লক ডাউনে মানুষ কেমন আছে, ফোনেও কেউ খবর নেয় না কেউ।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মী ইয়াকুব শাহরিয়ার বললেন, লকডাউনের সময় সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারতেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এখন দেখা যাচ্ছে না তাঁদের।
দোয়ারাবাজারের লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বললেন, করোনার নেতিবাচক প্রভাব গ্রামে কম। নির্বাচন পেছানোয় ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেরই দেখা মিলছে না। আমরা যারা দায়িত্বে আছি, সরকারের নির্দেশেই মানুষের কাজে থাকতে হচ্ছে আমাদের।
শাল্লার বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা বিশ^জিৎ চৌধুরী নান্টু বললেন, গ্রামে গ্রামে ঘুরে দেখছি কোন কৃষকের ধান কাটা শ্রমিকের সংকট আছে কি না, ছাত্র-তরুণদের ধান কাটার কাজে যুক্ত হতে উৎসাহ দিচ্ছি। এই ইউনিয়নের আরেক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শাল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি পিসি দাস বললেন, করোনা- লকডাউন এসব শব্দ শহরের মানুষের জন্য, বোরো ক্ষেতের ধান কামলাদের (শ্রমিকদের) করোনায় ভয় পায়। প্রত্যেক হাওরে হাজার হাজার মানুষ ধান কাটছে, মানুষ সুস্থ্যই আছে। নিজের ধানের চিন্তা না করে সাধারণ মানুষের পাকা ধান কাটতে পারছে কি না খোঁজ খবর নিচ্ছি। এখন এটাই গণসংযোগ।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন বললেন, সংকটে পাশে দাঁড়ালে মানুষের আস্থা বাড়ে। ক্রান্তিকালেই নেতৃত্ব তৈরি হয়। নির্বাচন পেছালেও ভালো পরিস্থিতি হলেই হয়তো নির্বাচন ঘোষণা হবে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন মানুষের পাশে থাকতে হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় যারা ছিলেন, তারা এই সময়ে মানুষের পাশে থাকা জরুরি।