সংকেত মানলেই দুর্ঘটনা

আসাদ মনি
নির্দেশনা মানলেই দুর্ঘটনা! শুনতে অনেকটা অবাক মনে হলেও সম্প্রতি সুনামগঞ্জ পৌরশহরে একটি সড়কে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সড়কের বাম পাশে সাইন সিগনালে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার লেখা থাকলেও কয়েক গজ দূরে দেয়া হয়েছে বড় বড় দুটি স্পিড ব্রেকার। পথ নির্দেশক সাইন সিগনালের দিকে নজর রেখে পরিবহনে চালালে এই স্পিড ব্রেকারের কারণে নিশ্চিত দুর্ঘটনা ঘটবে বলে জানিয়েছেন একাধিক চালক।
সুনামগঞ্জ পৌরশহরের প্রবেশপথ বলা হয় ভাষাসৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সফল সংগঠক আব্দুজ জহুর সেতুকে। এই সেতু পার হয়ে শহরে ঢুকার পথে মল্লিকপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়। জেলা পরিষদের পরেই রয়েছে এলজিইডি’র অফিস। এরপর ২৮ বিজিবি’র ক্যাম্পাস। পাশাপাশি এই ৩ অফিসের মাঝেই কিছুদিন আগে নিদিষ্ট দূরত্বে দেয়া হয়েছে দুটি বড় বড় স্পিড ব্রেকার। একই জায়গায় সড়ক বিভাগের আগে থেকেই দেওয়া ৩ টি সাইন সিগনাল রয়েছে। প্রথমটিতে সবোর্চ্চ গতি ৬০ কিলোমিটার, দ্বিতীয়টিতে ওভারটেকিং নিষেধ ও তৃতীয়টিতে বামে সংযোগ সড়ক লিখা। এই জায়গায় কয়েকদিন আগেই দুটি স্পিড ব্রেকার দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, স্পিড ব্রেকার দেয়ার সময় এই সাইন সিগনালগুলো হয়তোবা খেয়াল করা হয় নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের সবচেয়ে প্রশস্ত ও ভালো সড়ক এটি। তাই যানবাহনের গতি সবসময় বেশি থাকে সড়কের এই অংশে। বড় বড় স্পিডব্রেকার দিলেও, পাশের সাইন সিগনাল দেখে অনেক চালকই নিদিষ্ট গতিতে যান চালান। এতে হঠাৎ স্পিডব্রেকার দেখে ব্রেক কষেও বড় ঝাঁকুনি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না চালকরা। শহরের অন্যান্য সড়কে এরকম স্পিডব্রেকারের উপরে সাদা রং দেয়া হলেও এখানে কিছুই দেওয়া হয়নি। একারণে বিটুমিনের সড়কে স্পিডব্রেকারের উপস্থিতি দূর থেকে দেখা যায় না।
এছাড়াও জেলা পরিষদ থেকে বিজিবি অফিস পর্যন্ত সড়কে বাতি নেই। ফলে রাতে অন্ধকার হয়ে থাকে সড়কের এই অংশ। এতে ঝুঁকির আশঙ্ক বেশি বলে জানিয়েছেন চালকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোথাও গতিরোধক দিলে এর আগে সাইন সিগনাল দিয়ে চালকদের সর্তক করা হয় ‘সামনে গতি রোধক আছে, ধীরে চালান’। এছাড়াও চালকরা যাতে স্পষ্ট গতিরোধক দেখতে পারেন সে জন্যে সাদা রং দিয়ে চিহৃ দেয়া হয় উপরে। কিন্তু এখানে কিছুই নেই। স্পিডব্রেকারের আগে যে জায়গায় ‘সামনে গতিরোধক’ লেখা থাকার কথা সেখানে আছে সবোর্চ্চ গতি ৬০ কিলোমিটার। এতে দুর্ঘটনা কমার চেয়ে দুর্ঘটনা বাড়ার আশংকা বেশি।
গাড়ী চালক মো. আবু তাহের মিয়া বললেন, স্থানীয় চালকদের কয়েকদিন সমস্যা হয়েছে। এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তবে নতুন কেউ এলে বিপদে পড়তে পারে।
চালক আলী আহমদ ও মিরাজুল ইসলামও জানালেন একই কথা। বললেন, নিয়ম হচ্ছে স্পিড ব্রেকারের উপরে সাদা রং লাগানো থাকবে। এর আগে সাইন সিগনালের মাধ্যমে চালকদের সর্তক করা হবে, সামনে গতিরোধক রয়েছে। এখানে উল্টো সিগনাল দেওয়া রয়েছে। সেখানে লেখা সর্বোচ্চ গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার। যা দেখে কোনো চালক গাড়ি চালালে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পড়বে।
নিরাপদ সড়ক চাই সুনামগঞ্জ কমিটির সভাপতি মহিম তালুকদার বলেন, এখানে স্পিডব্রেকার দেওয়া হয়েছে। স্পিডব্রেকারের উপর ও পাশে কোনো চিহ্ন দেয়া হয় নি। এতে কয়েকদিনের ভেতরে কয়েকটি মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্পিডব্রেকার দেবার কথা বলি। তখন তারা বলে মহাসড়কে স্পিডব্রেকার দেবার নিয়ম নেই। এখন দুটি বড় স্পিড ব্রেকার কোন নিয়মে দিলেন তারা, আমরা বুঝি না।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এজন্য এখানে দুটি ছোট আকারের গতিরোধক দেওয়া হয়েছে। সবোর্চ্চ ৬০ কিলোমিটারের সাইন সিগনাল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানালেন, তিনি নতুন এসেছেন, এই সাইন সিগনাল তিনি দেখেন নি। যেহেতু বিষয়টি জানালেন, অবশ্যই সাইন সিগনালটি সংশোধন করা হবে।