সন্ধ্যা আরতির পর বন্ধ থাকবে মণ্ডপ, বিসর্জন নিজ নিজ ঘাটে

সু.খবর ডেস্ক
করোনা মহামারির কারণে সার্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যা আরতির পর পূজামণ্ডপ বন্ধ রাখা এবং প্রতি মণ্ডপ থেকে সরাসরি নিজ নিজ ঘাটে গিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কমিটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মন্ডলসহ কমিটির অন্য নেতৃত্বস্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, এবছর মায়ের আগমন ঘটবে দোলায় এবং গমন হবে গজে। শারদীয় দুর্গাপূজা ২১ অক্টোবর শুরু হবে অকালবোধনের মাধ্যমে। মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে এবং ২৬ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক করোনা মুক্তির জন্য মহা সপ্তমীর দিন ১২টা এক মিনিটে মায়ের কাছে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সার্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সন্ধ্যা আরতির পর পূজামণ্ডপ বন্ধ থাকবে এবং প্রতি মণ্ডপ থেকে নিজ নিজ বিসর্জন ঘাটে গিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে।
সভায় মহামারি করোনার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দুর্গাপূজা যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সাত দফা নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করে ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ২৬ দফা নির্দেশনার আলোকে ২২ দফা নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
এরমধ্যে ধর্মীয় রীতি-নীতি অনুসরণ করে ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা করা, মন্দির কর্তৃপক্ষ ও দর্শনার্থীদের সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা, মন্দিরের প্রবেশদ্বারে সবার জন্য সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা, প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা এ বছরের জন্য পরিহার করা, সন্ধ্যা আরতির পর দর্শনার্থী প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা এবং আতশবাজি ও পটকা ব্যবহার থেকে বিরত থাকা অন্যতম।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সম-অধিকার ও সম-মর্যাদা এবং জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে অষ্টমী, নবমী ও বিজয়া দশমীর এই তিনদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব ভবনে জাতীয় উৎসবের আঙ্গিকে দুর্গাপূজার পাঁচদিন আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা, প্রত্যেক পূজামণ্ডপ ও পূজামণ্ডপগামী সড়কে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পরিবর্তে হিন্দু ফাউন্ডেশন গঠন করার দাবি অন্যতম।
এবছর সারাদেশে তিন হাজার ২১৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গতবারের তুলনায় এবার এক হাজার ১৮৫টি কম। এছাড়া ঢাকা মহানগরে এবার মণ্ডপের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩২টি, যা গত বছর ছিল ২৩৮টি।
এবছর দুর্গাপূজায় যার যার অবস্থানে থেকে ঘরে বসেই সবাই যেন মায়ের পূজা অর্চনা ও আরাধনা করতে পারে এজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মহানগর কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী পূজার দিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মায়ের পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করবে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল। একই সময়ে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ‘শ্রী শ্রী ঢাকেরশ্বরী জাতীয় মন্দির’ ফেসবুক পেজ থেকে মায়ের পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম