সব ধর্মাবলম্বীর নিজস্ব মত ও পথ নিশ্চিত করতে চাই: পরিকল্পনামন্ত্রী

সু.খবর ডেস্ক
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, প্রত্যকে ধর্মালম্বীর নিজস্ব মত ও পথ আমরা নিশ্চিত করতে চাই। শুধু আমাদের রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো সম্পূর্ণ মেনে চলতে হবে।
এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত চলবে না। বিদায় হজে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছিলেন, মানুষে-মানুষে কোনো বিরোধ হবে না। পূবের মানুষ-দক্ষিণের মানুষ, উত্তরের মানুষ কারো মধ্যে এ ধরণের কোনো বিরোধ থাকবে না। আমাদের ব্যাক্তি জীবনেও এটি জীবনে অনুসরণ করতে হবে।
রোববার (৯ অক্টোবর) ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উদ্যোগে বনানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা আছে মুসলমানরা শুধু নিজেদের কথা ভাবে, এটা ভ্রান্ত ধারণা। বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে একটা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১৪ বছরে অনেক এগিয়েছি। শুধু বৈষয়িক নয়, মানবিক বিষয়েও। তার নেতৃত্বে ৫০০ মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে মানুষ হজ সম্পন্ন করতে পারছেন। দুই দশক সময় ধরে মহৎ কার্যক্রম ও সামাজিক দায়িত্ব পালন ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর দীর্ঘ পথ পরিক্রমার উচ্ছসিত ও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি লে. জেনারেল (অব.) এম নুরুদ্দিন খান শাস্তি, সহিষ্ণুতা ও সমতার বিষয়ে রাসুল (সা.) এর শিক্ষা সম্পর্কে আমদের উপলব্ধি বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠানের প্রধান উপদেষ্টা শেখ আবদুল লতিফ আল কাদি আল মাদানী রবিউল আউয়াল মাসের তাৎপর্য নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। সেন্টার-ফর-যাকাত ম্যানেজমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় পুরষ্কার এবং ইউনিক হোটেল ও রিসোর্টের অর্থায়নে অনুষ্ঠানের ভেন্যু সংযোজিত হয়।
এর আগে, পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। যার মধ্যে ছিল পবিত্র কোরআনের তাফসির, মিলাদ মাহফিল এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি বিগত ২০০৪ সাল থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা, কম্পিউটার, ব্রেইল ও ইন্টারনেট প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রতি বছর পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে তারা।
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য ছিল মহানবী (সা.) এর জীবনের শিক্ষা ও আলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত শান্তি ও সহনশীলতার সমাজ গঠন করা।
এছাড়া, সুবিধাবঞ্চিত এই শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করাও ছিল এই প্রতিযোগিতার আরও একটি উদ্দেশ্য। অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিযোগীরা এতে অংশ নেন। ৫টি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় ১৭ জনকে পুরষ্কৃত করা হয়েছে। তাদের সবার হাতে মন্ত্রী নিজে পুরষ্কার তুলে দেন।
পুরষ্কারপ্রাপ্তরা হলেন-
এবারের প্রতিযোগিতায় কুরআন তিলাওয়াত ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন মোহাম্মদ হুজাইফা, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মো. খাদেমুল ইসলাম, যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তোফায়েল ও মাহমুদা আক্তার রাদিয়া। হামদ ও নাত ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন সুমাইয়া আক্তার, ২য় হৃদয় হক তামিম এবং ৩য় স্থান হন মেহলং মারমা। বাংলা ভাষায় রচনা ক্যাটাগরিতে ১ম শাহ মো. মাহমুদুল হাসান, ২য় ফারজানা ইসলাম মিম এবং ৩য় স্থান হন ফেরদৌসী আক্তার। ইংরেজি ভাষায় রচনা ক্যাটাগরিতে ১ম ফাতেমা-তুজ-জোহরা, ২য় ওবায়দুর রহমান রাহুল এবং যৌথভাবে ৩য় স্থান হন মোকলেসুর রহমান, আবু ফারাজ। স্ক্রিন রিডার সফটওয়্যার ক্যাটাগরিতে ১ম আজমেরী নিশাত, ২য় মোকলাসুর রহমান এবং ৩য় হন রাইসুল ইসলাম।
সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম