সভাপতি ও সম্পাদক হতে চান দুই গ্রুপের নয় নেতা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার মধ্যে ১০ উপজেলায় সোমবার থেকে আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলন শুরু হচ্ছে। প্রথম হবে দিরাই উপজেলা সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে দিরাই আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপই ব্যাপক জমায়েত করার চেষ্টা করছে। পদ পেতেও মরিয়া দুই গ্রুপের নেতারা।
প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নির্বাচনী এলাকা দিরাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তবে গেল পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীতাকে ঘিরে এই উপজেলায় আওয়ামী লীগে বিভক্তি তৈরি হয়েছে।
সংগঠনের একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন, অ্যাড. সোহেল আহমদ ও প্রদীপ রায়। অন্য গ্রুপে রয়েছেন সাবেক পৌর মেয়র মোশারফ মিয়া ও যুবলীগের উপজেলা সভাপতি রঞ্জন রায় প্রমুখ। উপজেলা সম্মেলনের আগে এই উপজেলার কোন ইউনিয়নেই সম্মেলনও করা সম্ভব হয় নি। উপজেলা সম্মেলন দুটি পর্বে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি। প্রথম পর্বে উদ্বোধন ও সমাবেশ। দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশন। এক্ষেত্রে কাউন্সিলর কিভাবে তৈরি হবে সেটি নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত।
সম্মেলনে দুই গ্রুপই গণজমায়েত করার চেষ্টা করছে। নতুন কমিটিতে পদ পেতেও মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন দুই বলয়ের নেতারা।
সাবেক পৌর মেয়র মোশারফ মিয়াকে দিরাই পৌরসভার বিগত পৌর নির্বাচনের তিন দিন আগে (২০ ডিসেম্বর ২০২০ ইংরেজি তারিখে) সংগঠন থেকে বহিস্কার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন দলের দয়িত্বশীলরা। মোশারফ মিয়ার দাবি বহিস্কার নয়, পদ থেকে মৌখিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া দেওয়া হয়েছিল তাকে। এই সংক্রান্ত কোন চিঠিও তিনি পান নি। কাউন্সিলে অবশ্যই তিনি থাকবেন। দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসাবে পৌর নির্বাচনের পরেও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির উপস্থিতিতেই একটি সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন।
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় বললেন, মোশারফ মিয়াকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল জানি আমি। এখন তার বিষয়ে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরাই সিদ্ধান্ত দেবেন। কাউন্সিলর নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বললেন, যেহেতু ইউনিয়ন সম্মেলন হয় নি। কাউন্সিলর নির্ধারণ করা কঠিন হবে। কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের নির্দেশনায় কাউন্সিলর তৈরির চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
সম্মেলনে সভাপতি পদে আগ্রহীরা হলেন আলতাব উদ্দিন, অ্যাড. সুহেল আহমদ, সিরাজ উ দৌলা তালুকদার, মোশারফ মিয়া ও হাফিজুর রহমান তালুকদার। সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহীরা হলেন, প্রদীপ রায়, রঞ্জন রায়, অ্যাড. অভিরাম তালুকদার ও অ্যাড. আজাদুল ইসলাম রতন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন বললেন, দিরাইয়ে দুই পর্বে সম্মেলন হবে। দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশনের জন্য ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. সুহেল আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের তালিকা দেবার পরেও কোন দাবি উঠলে সভাপতি সাহেবসহ আমরা সেটি দেখবো। তিনি জানালেন, দিরাই পৌর নির্বাচনের আগে মোশারফ মিয়াকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। এই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়েছে, এমন তথ্য তার জানা নেই।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বললেন, মোশারফ মিয়াকে বহিস্কার করার কোন চিঠি জেলা বা কেন্দ্রকে দেওয়া হয় নি। বহিস্কারের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হয় নি। এই বিষয়টি সমাধান না হলে, দুই পক্ষই কাউন্সিলর দিতে চাইবে। এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দলীয় দায়িত্বশীলরা জানান, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকছেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহীদ, বিশেষ অতিথি থাকছেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, সদস্য আজিজুস সামাদ ডন ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।
সুনামগঞ্জের অন্য উপজেলার মধ্যে শান্তিগঞ্জে ১৫ নভেম্বর, জগন্নাথপুর উপজেলা ও পৌরসভা ১৬, তাহিরপুর ১৭, জামালগঞ্জ ১৮, ছাতক উপজেলা ও পৌরসভা ১৯, দোয়ারাবাজার ২০, ধর্মপাশা ২১ নভেম্বর, শাল্লায় পহেলা ডিসেম্বর এবং সুনামগঞ্জ সদর ও পৌরসভায় দুই ডিসেম্বর হবে আওয়ামী লীগের ইউনিট সম্মেলন। বৃহস্পতিব জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর করা এই সংক্রান্ত চিঠি উপজেলায় উপজেলায় দায়িত্বশীলদের কাছে পাঠানো হয়েছে।