সভাপতি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ/ সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ আদালতের

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
মধ্যনগর উপজেলার গলহা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান এ ব্যাপারে ধর্মপাশা সহকারী জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করলে আবেদন আমলে নেন এবং নবনির্বাচিত সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী ও অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা কেন প্রদান করা হবে না তা জানতে চেয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবি মো. শামস উদ্দিন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত সোমবার আব্দুল মান্নান ধর্মপাশা সহকারী জজ আদালতে ওই মামলা করেন।
মামলা ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর এ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন হয়। পরে ১৫ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রভাত দেবনাথকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আব্দুল মান্নানের অভিযোগ, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল হক অনৈতিকভাবে প্রভাত দেবনাথকে দাতা সদস্য করেন। এর আগে গত বছরের ১৪ জুলাই তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিভিন্ন অনিয়মের কারণে প্রভাত দেবনাথকে দাতা সদস্য পদ থেকে অপসারণ করা হয় (যার তথ্যাদি মান্নানের কাছে সংরক্ষিত)। কিন্তু শিক্ষক রফিকুল হক ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দাতা সদস্য পদে প্রভাত দেবনাথকে বহাল রাখেন এবং প্রধান শিক্ষক তার ব্যাক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার জন্য প্রভাত দেবনাথকে দাতা সদস্য বানিয়ে অনৈতিকভাবে কমিটির সভাপতি করেন।
আব্দুল মান্নান বলেন, ‘গত বছর ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে দাতা সদস্য হই। কিন্তু গোপনে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে দাতা সদস্য পদ থেকে বাদ দেন। বিষয়টি জানতে পারায় আমি মামলা করেছি।’
প্রভাত দেবনাথ বলেন, ‘আমি কোনো নোটিশ পাইনি। প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছেন তিনি এ সংক্রান্ত নোটিশ পেয়েছেন। দাতা সদস্য হিসেবে আমি সভাপতি হয়েছি। দাতা সদস্য পদ থেকে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল কি না তা প্রধান শিক্ষক জানেন।’
প্রধান শিক্ষক রফিকুল হক বলেন, ‘প্রভাত দেবনাথ গত বছর যেখানে দাতা সদস্যই ছিলেন না সেখানে তাকে (প্রভাত) দাতা সদস্য পদ থেকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। তাঁর (প্রভাত) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অভিযোগকারী প্রত্যাহার করেছিলেন। আর আদালতের কোনো নোটিশ পাইনি। এ সংক্রান্ত বিষয় লোকমুখে শুনেছি।’