সম্পদে এগিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৪ প্রার্থীর মধ্যে সম্পদে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম। পেশাগত মাপকাঠিতে হলফনামায় তিনি নিজেকে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারী ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় উল্লেখিত মূল্য অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ ৯৮ লক্ষ টাকা। তিনি ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত নন এবং অতীতেও তার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয়নি। কোন দায় দেনাও নেই তার।
জাতীয় পার্টি মনোনীত আবু সালেহ’র সম্পদের পরিমাণ ১৭ লক্ষ ১০ হাজার টাকার। তিনি ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত নন এবং অতীতেও তার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয়নি। কোন দায় দেনাও নেই তার।
বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ বারীর সম্পদের পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার। নির্বাচনী হলফনামায় পেশা উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। কোন দায় দেনাও নেই তার। অতীতে তার বিরুদ্ধে তিনটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে দুটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। একটি দোয়ারাবাজার জোন আমলী আদালতে (দঃবিঃ ৩২৩/৫০৬ ধারা) নথিজাত করা হয় গত বছরের ৩১ অক্টোবর।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌধুরীর ৭ লক্ষ ১০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। কোন দায় দেনাও নেই তার।
আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম কৃষি খাত থেকে ১ লক্ষ টাকা এবং ব্যবসা থেকে বাৎসরিক ২০ লক্ষ টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ ৩ লক্ষ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৭ লক্ষ টাকা, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলংকারাদি ১০ লক্ষ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ২ লক্ষ টাকা, আসবাবপত্র ৫ লক্ষ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে ২ একর কৃষি জমি, অকৃষি জমি ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা, দালান একটি এবং নিজ ও স্ত্রীর নামে ৩০ শতক কৃষি জমি।
জাতীয় পার্টি মনোনীত আবু সালেহ কৃষি খাত থেকে বাৎসরিক ১ লক্ষ টাকা, বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে ৬০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ৬ লক্ষ টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে ৫ লক্ষ টাকা, আসবাবপত্র ১ লক্ষ টাকা, নিজ ও স্ত্রীর নামে নগদ ২ লক্ষ টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে কৃষি জমি ১.০০, অকৃষি জমি ০.৩০, দালান ১০টি কক্ষ।
বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ বারী কৃষি খাত থেকে বাৎসরিক ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যবসা (বিবিধ) থেকে ১ লক্ষ টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ ১ লক্ষ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২ লক্ষ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লক্ষ টাকা, আসবাবপত্র ১ লক্ষ টাকা, অন্যান্য (অতীত সঞ্চয়) ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে যৌথ মালিকানায় ১০ কেদার কৃষি জমি, নিজ নামে অকৃষি জমি পৈত্রিক সম্পত্তি ৯০ শতক, ৮ শতাংশের মধ্যে ১টি পাকা দালান ঘর-মূল্য অনুমান ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ১টি পাকা দালান ঘর ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌধুরীর ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ ১ লক্ষ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লক্ষ টাকা, আসবাবপত্র ২ লক্ষ টাকা। নিজ ও স্ত্রীর নামে ১০ ভরি স্বর্ণ। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে ১৮ কেদার কৃষি জমি, যৌথ মালিকানায় ১টি দালান ঘর।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১০ মার্চ ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ১ম পর্যায়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রহিম। তিনি নৌকা প্রতীকে পান ৩১ হাজার ৫৮৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিদ্রোহী দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌ: (কাপ পিরিস) প্রতীকে পান ২০ হাজার ১২১ ভোট। কিন্তু গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রহিম (৭৫)। এর আগে তিনি ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দোয়ারাবাজার উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় সিলেট মেডিকেল কলেজের (বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজ) ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ডিংরাই ইয়ুথ ক্যাম্প ও ডিংরাই রিফউজি ক্যাম্পের চিকিৎসক ছিলেন। ১৯৭৯ সালে ছাতক-দোয়ারা আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রহিম।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে।