সম্প্রীতি নষ্টকারীদের কালো হাত ভেঙে দেব-র‌্যাব মহাপরিচালক

স্টাফ রিপোর্টার
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ্ আল মামুনসহ র‌্যাব’এর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা হেলিকপ্টারযোগে নোয়াগাঁও এসে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি দেখেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১ টায় নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিং করেন তিনি।
প্রেস বিফ্রিং-এ র‌্যাব প্রধান বলেন,‘ জাতির পিতার জন্মদিনে একটি সন্ত্রাসীচক্র হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরীহ লোকদের উপর যে আক্রমন করেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও কাপুরুষের কাজ। যা বরদাশত করব না, করা যায় না। বর্তমান সরকার যেখানেই সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখানে যারা এই পরিবেশ সৃষ্টি করেছে ,তাদের রক্ষা হবে না। নোয়াগাঁও গ্রামের ঘটনায় আমি লজ্জিত। ’
তিনি বলেন,‘ যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায়, তাদের কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে। এদেশে সকলে মিলেমিশে বসবাস করব। আমরা অতীতে দেখেছি আজানের সময় হিন্দুরা উলুধ্বনি দেয়নি। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে আমরা হটিয়ে দিয়েছি। আমরা নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। জঙ্গিবাদ -সন্ত্রাসবাদ যেখানে আমাদের ঘায়েল করতে পারেনি। এখানকার উগ্রগোষ্টীর কেউ আমাদের সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে পারবে না।’
তিনি বলেন,‘ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় নির্দেশ দিয়েছেন, যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকুক, তাদের বরিুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজকের (বৃহস্পতিবার) মধ্যেই মামলা হবে, ঘটনার তদন্ত হবে। সাদা পোষাকে আইনশৃংখলা বাহিনী কাজ করছে। অপরাধীদের যত দ্রুত সম্ভব গ্রেপ্তার করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবে সরকার। সকলে মিলে একাকার হয়ে বসবাস করতে চাই। এই দেশ হিন্দুদের-মুসলমানদের। আমরা একসাথে চলতে চাই। আমি যখন ছোট ছিলাম, আমাদের এলাকার আবদার জয়দেব বাবু ও মহাদেব সরকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। হিন্দুরা কিভাবে ধনী হলো, তখনতো কেউ প্রশ্ন তোলেননি। ’
র‌্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন,‘নোয়াগাঁও গ্রামের ঘটনায় হাওর এলাকার সন্তান ডাক-টেলি যোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার মহোদয়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, ঘটনার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। যাদের মাঝে সংকীর্নতা আছে, তা পরিহার করতে হবে। আমরা হিন্দুদের বিয়েতে যাই, মুসলানদের বিয়েতেও যাই। শাহ আব্দুল করিম, রাধারমণ ও হাসনরাজার বাড়ি আমাদের পাশে। আমরা কেন সংর্কীর্ণতায় ভুগবো। আমাদের উদরতা দেখে অন্যরা শিখবে। যারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি চলে গেলেও সবসময় খোঁজ-খবর রাখব। যেহেুত এই এলাকার সন্তান আমি। এই এলাকার মাটির প্রতি আমার দায় আছে। সেই দায় থেকে খোঁজ খবর রাখব। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকবেন। কেউ আপনাদের শান্তির ঘুম নষ্ট করতে পারবে না। এটা আমরা নিশ্চিত করব।’
তিনি বলেন, গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে। গ্রামবাসীকে ভয় না পাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার আপনাদের পাশে আছে। এই দেশ হিন্দু-মুসলিমসহ সকলের। এই চিন্তা করেই সরকার কাজ করছে এবং এজন্য দেশের অগ্রগতি হচ্ছে।
র‌্যাবের প্রধান বলেন,‘ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পথিবীর বুকে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছি আমরা। ভবিষ্যতে যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এই বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। যেকোন দেশের তুলনায় জঙ্গি দমনে, সন্ত্রাস দমনে, আইনশৃংখলা উন্নয়নে ইষনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নতশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছি। কেউ এটা আমাদের দয়া করে দেয়নি। এটা সবাই মিলে অর্জন করেছি। ১৪ মাইল হেটে আমি বনিয়াচং হাইস্কুলে গিয়েছি। দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। এখন এলাকায় হাইস্কুল হয়েছে। সরকার এই ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই ঘটনার বিচার আমরা নিশ্চিত করব। যাতে এই ঘটনা আগামীতে আর না ঘটে। এবং ক্উে যেন এই কাজ করার সাহস না পায়।’
র‌্যাব প্রধানের সঙ্গে র‌্যাব- ৯ সিলেটের অধিনায়ক লে, কর্ণেল আবু মুসা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান, শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল আমিন চৌধুরী), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদীর আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত. জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থকরা বুধবার সকালে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করেছে নোয়াগাঁও গ্রামের অন্তত ৮৮ টি বাড়িতে। এসময় গ্রামের ৬ টি মন্দির ভাংচুর করা হয়। নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামনুল হককে কটাক্ষ করে কথিত স্ট্যাটাসের জের ধরে বুধবার সকাল ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে এই তা-ব চালানো হয়।
গত সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই স্টেডিয়ামে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্য দেন। এসময় ধর্মীয় উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন মামুনুল হকসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা।