সরকারি গাছ কেটে নিলো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ মামুন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য সামাজিক বনায়নের সরকারি গাছ কর্তন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে সরেজিমন পরিদর্শন করে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন এবং কর্তনকৃত গাছের জব্দকৃত ডুমগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের উভয় পাশে সুনই এলাকায় সামাজিক বনায়নের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে মামুনের বাড়ির সামনে একটি বড় রেইনট্রি গাছ রয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে সেই গাছটি কর্তনের জন্য মামুন কুড়শিবাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলাম ও সুনই গ্রামের রানু মিয়া নামে দুই শ্রমিককে কাজে নিয়োজিত করে। বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি সেখানে যান। এ সময় রানু মিয়া সেখান থেকে সটকে পড়েন এবং নজরুলকে আটক করা হয়। তখন নজরুল ইউএনওকে জানায় যে, মামুনের নির্দেশে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা গাছ কর্তনের কাজ নিয়োজিত হয়েছেন। পরে নজরুলকে মুক্তি দেওয়া হয়। এদিকে বুধবার সকাল ১০টার দিকে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের পিএম শামসুল আলম ও বন প্রহরী চন্দন গোস্বামী ঘটনাস্থলে গিয়ে মামুনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পান এবং তারা সড়কের পাশ থেকে কর্তনকৃত গাছের ডুমগুলো জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখেন।
অভিযুক্ত শরীফ আহমেদ মামুন বলেন, ‘বর্ষায় ওই গাছের ডাল ভেঙে রাস্তায় পড়েছিল। ডালপালা তখনই পেটে ফেলা হয়। আর গাছটি আমার সীমানা ঘেষা। নজরুল নামে এক ব্যক্তি গাছটি কেটেছে। আমি কিছুনা। প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে। আমার বাড়িতে কাটা গাছের কোনো অংশ আনা হয়নি।’
২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘মামুন গাছ কাটানোর পর ডুমগুলো তার বাড়িতে নিয়ে রাখে। কিন্তু সেগুলো লুকিয়ে ফেলায় উদ্ধার করা যায়নি। অবশিষ্ট অংশগুলো বন বিভাগের পক্ষ থেকে আমার জিম্মায় রাখা হয়েছে।’
পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, ‘মামুন শুধু এই গাছ কর্তনই করেনি বরং তার বিরুদ্ধে গ্রামীণ সড়ক কেটে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ আছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও অলিদুজ্জামান বলেন, ‘ওই গাছ কর্তনের সাথে শরীফ আহমেদ মামুনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন বিভাগকে জানানো হয়েছে।’
সুনামগঞ্জ বন সম্প্রসারণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, ‘কর্তনকৃত গাছ জব্দ করা হয়েছে। সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত গ্রহণ করা হবে।’