সরকারি সুবিধা দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি

এনামুল হক, ধর্মপাশা
একজন জনপ্রতিনিধি কাউকে নলকূপ, কাউকে খাস জমি আবার কাউকে সরকারি ঘর পাইয়ে দেবার নামে হাতিয়ে নেন টাকা। তারপর ভুক্তভোগীদের সাথে বন্ধ করে দেন যোগাযোগ। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরেও ভুক্তভোগীরা কাঙ্খিত উপকার না পেয়ে চেষ্টা করেন সেই জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে টাকা ফেরত পাওয়ার। তবে জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন কৌশলে এড়িয়ে চলেন তাদের। ভুক্তভোগীরা ফোন দিলেও রিসিভ করেন না তিনি। এভাবেই অসহায় মানুষদের টার্গেট করে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। এমন জনপ্রতিনিধির নাম বিল্লাল হোসেন (বিল্লাল নূরী)। তিনি ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান।
বছর দেড়েক আগে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেরিকান্দি গ্রামের মঞ্জিল হকের কাছ থেকে নলকূপ দেওয়ার নাম করে একই ইউনিয়নের বড়খলা গ্রামের রফিফ বয়াতির মাধ্যমে সাড়ে ৮ হাজার টাকা নেন বিল্লাল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরেও মঞ্জিলকে নলকূপ পাইয়ে দিতে পারেননি তিনি। ফলে মঞ্জিল সেই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বিল্লালের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও টাকা ফেরত পাননি। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বেরিকান্দি গ্রামের শিক্ষার্থী সানজিদ আহমেদ সজিব মঞ্জিলের টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সজিব কিছুদিন পরপর উপজেলা সদরে গিয়ে বিল্লালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে সজিব এ নিয়ে ইউএনওর সাথে কথা বলেন। বিল্লাল ইউএনওর সামনে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললেও পরে আর সেই টাকা ফেরত দেননি। এদিকে অসুস্থ শরীর নিয়ে বারবার উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করায় ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল মঞ্জিলের। অবশেষে সেই টাকা ফেরত না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ওইদিন রাতেই সজিব বিল্লালের এমন কার্যকলাপের বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করলে তা সকলের সামনে আসে। বিল্লাল হোসেন দাবি করেছেন তিনি যার মাধ্যমে মঞ্জিলের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন তার ভাই লোকমানের মাধ্যমে মঞ্জিলের দাফনের আগে ৮ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। কিন্তু মঞ্জিলের ছেলে ইয়াসিন জানিয়েছেন সে টাকা এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি। এদিকে সজিব বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করায় তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে বিল্লালের লোকজন।
সানজিদ আহমেদ সজিব বলেন, আমার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের হানিফ ফকির জানান, তাঁর কাছ থেকে খাস জমি বন্দোবন্ত নেওয়ার নাম করে ১ বছর আগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন বিল্লাল।
সদর ইউনিয়নের হলিদাকান্দা উত্তরপাড়া গ্রামের হাবি মিয়া জানান, বিল্লাল নিজের হাতে নলকূপ দেওয়ার কথা বলে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে। কিন্তু এখনও নলকূপ বা টাকা ফেরত পাননি তিনি।
পাইকুরাটি ইউনিয়নের জিংলীগড়া গ্রামের আলম মিয়া জানান, পাইকুরাটি ইউনিয়নের রাজাপুর, হিজলাসহ কয়েকটি গ্রাম থেকে নলকূপের কথা বলে লাখ খানেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিল্লাল।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেদেহী হাসান বলেন, ‘নলকূপের জন্য সরকারিভাবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। কেউ যদি অন্যের মাধ্যমে বেশি টাকা দিয়ে প্রতারিত হয় সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।
মঞ্জিলের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে জানিয়ে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন (বিল্লাল নূরী) বলেন, ‘সজিব ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করবো। টিউবওয়েলের জন্য নেওয়া ১০/১২ জনের মধ্যে কয়েকজনের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। অনেকেই টাকা ফেরত নিতে চায় না। তাদেরকে দেরিতে হলেও টিউবওয়েল দিতে হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘সজিবসহ ভাইস চেয়ারম্যানকে নিয়ে বসেছিলাম। তিনি বলেছিলেন মঞ্জিলের টাকা ফেরত দিয়ে দিবেন। শুনেছি টাকা নাকি ফেরত দেওয়া হয়েছে। যদি আরও এমন কেউ থাকে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখবো।’