সরকারের লোকজনের কারণেই দেশের অর্থনীতিতে ধস-ড. আব্দুল মঈন খান

স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, সরকারের লোকজন মেঘা প্রকল্পে মেঘা দুর্নীতি করেছে। তারা দেশ থেকে লক্ষ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। সরকারের লোকজনের কারণেই দেশের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে।
সিলেটের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সংগঠনের বর্ধিত সভায় যোগদানের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসময় কথা বলেন মঈন খান।
মঈন খান বলেন, পাঁচটি বিভাগে বিএনপির সমাবেশ সফল হয়েছে। লাখো লাখো মানুষ সমবেত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছেন। এসব সমাবেশ সফল হয়েছে কি না তা জনগণই বলবেন।
তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশ ঠেকাতে অনেক অবাক কা- ঘটছে দেশে। বিভিন্ন দেশে বিরোধী দল হরতাল ডাকে, কিন্তু এখানে সরকার পরিবহন ধর্মঘট ডাকে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মঈন খান বলেন, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন যে কাজ করতে পারবে না, সেটা বর্তমানে যারা ইসিতে রয়েছেন, তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন। যে এই সরকারের অধিনে যেভাবেই ইসি গঠন করা হোক না কেন- তাদের পক্ষে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার সুযোগ নেই। কেন না তাদের সরকারের নির্দেশ মানতে হয়।
তিনি বলেন, এই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। দেশের আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সরকার এত বছর বলেছে, বাংলাদেশ নাকি উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। তাহলে সরকার এখন নিজেই কেন বলছে বিভিন্ন সমস্যা আছে। এটার জবাব সরকারই দিতে পারবে। আমরা তো তখনই বলেছি, এখানে মেগা উন্নয়নের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে, এখনও হচ্ছে। এখানে জনগণের উন্নয়ন হচ্ছে না। সরকারের যারা আশির্বাদ পুষ্ঠ তাদের কয়েকজনের উন্নয়ন হচ্ছে। এটাই সত্যি কথা। তারা এদেশ থেকে লক্ষ-হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। কানাডায় বেগম পাড়া তৈরি করেছে, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে টাকা জমা করেছে। এর ফলই আপনারা এখন দেখতে পাচ্ছেন। অর্থনীতির যে ধস আসে সেটার ফল তো রাতারাতি দেখা যায় না-সেই সময়টা এখন ধীরে ধীরে পার হচ্চে।
পরে জেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুুরুলের সঞ্চালনায় বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সহসভাপতি নাদীর আহমদ, আব্দুল মোতালিব খান, অ্যাড. মাসুক আলম, আনছার উদ্দিন, সেলিম উদ্দিন, রেজাউল হক, আকবর আলী ও অ্যাড. শেরেনুর আলী, যুবদলের সভাপতি আবুল মুনসুর শওকত, কৃষকদলের সভাপতি আনিসুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শামসুজ্জামান, ছাত্রদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হাফেজা ফেরদৌস লিপন প্রমুখ।
বিকালে সিলেটের ১৯ নভেম্বরে বিভাগীয় সামবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে শহরে লিফলেট বিতরণ করেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।