সরু সেতুর পুরোটাই স্ট্যান্ড

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বাজার মঙ্গলকাটা। যে বাজারের পরিচিতি আছে পুরো জেলায়। বিশাল এই বাজারের পাশেই মঙ্গলকাটা সেতু। ৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি দিয়ে চলাচল করেন দুই উপজেলার অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষ। সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজারে চলাচলের জন্যও ব্যবহার হয় সেতুটি।
২০ বছর পূর্বে নির্মিত হওয়া এই সেতুটি খুবই সরু। সড়ক থেকেও সরু সেতুটি পুরো দখল হয়ে আছে অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে। সিএনজি- ব্যাটারি চালিত রিক্সা রাখার জন্য ব্যবহার হচ্ছে এই সেতু। যার কারণে বিঘিœত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল। সৌন্দর্য হারাচ্ছে পরিবেশের। সেতুতে একসাথে দুটি রিক্সা, ঠেলাগাড়ি বা অন্যান্য যানবাহন ক্রস করতে পারে না। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সড়কে চলাচলকারী স্থানীয় মানুষদের।
অটো চালক আরিফ আলম বললেন, গাড়ি রাখার আর কোন জায়গা নাই। তাই আমরা এখানে রাখি। তবে বাজারের বার সেতু নিচে থাকে গাড়ি।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল হোসেন বললেন, গাড়িগুলোর কারণে প্রত্যেকদিনই এখানে জ্যাম থাকে। সেতুর নীচে গাড়ি থাকে। একটা গাড়ি উপরে থাকলে আরেকটা গাড়ি অপেক্ষা করতে হয়।
সেতু সংলগ্ন দোকান জলিল টেলিকমের বাবুল বললেন, আমি বড় হওয়ার পর থেকেই এখানের এই অবস্থা দেখে আসতেছি। গাড়িগুলোর কারণে মানুষ কষ্ট করতেছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মো. মোতালিব বললেন, আমিও চাই এই সেতুটি দখলমুক্ত থাকুক। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি এইদিকে নজর দেয়ার জন্য।
জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান রসিদ আহাম্মেদ বললেন, আমি চাই এই যানজট কমুক। তাই গ্রাম পুলিশকে দায়িত্ব দিয়েছি। পুলিশকে বলছি আমাদের এখানের এই যানজট কমানোর জন্য। তারা চেষ্টা করছে। এলাকার মানুষ ভোট দিছে, শ্রম দিছে। খামখা তাদের লগে আমার দরবার হয়। বিট পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন, তাদের বলেন।
জাহাঙ্গীর ইউনিয়নের বিট পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শরীফ উদ্দিন ছুটিতে থাকায় সহকারী বিট কর্মকর্তা কামাল হোসেন বললেন, আমরা চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে গাড়ি সড়িয়ে দিয়েছি সেতু থেকে। আমরা চলে আসলেই আবার গাড়ি চলে আসে। খবর পেয়ে গেলে আবার সেখান থেকে তারা উধাও হয়ে যায়। তাদের স্ট্যান্ড উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয়দেরও এগিয়ে আসতে হবে।