সরু সড়ক ও জীর্ণ সেতুতে আটকে আছে কুশিয়ারা সেতুর সদ্ব্যবহার

যে প্রত্যাশা নিয়ে রানীগঞ্জের কুশিয়ারা সেতু উন্মুক্ত করা হয়েছিল কিছু দিনের ব্যবধানে তা হতাশায় পরিণত হয়েছে। সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বড় যানবাহন চালকরা পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ সড়ক ও কুশিয়ারা সেতু ব্যবহার না করে আগের মতই সিলেট হয়ে যাতায়াত করছেন বলে জানা যায়। বড় গাড়ির চালকরা বলেছেন, এই রাস্তার দুইটি বেইলি সেতু ও সেতুর অপরাংশের সরু সড়কের কারণে এই পথে তাদের যানবাহন চালাতে সময় বেশি লাগে তাই তারা আপাতত এই সড়ক ব্যবহার করছেন না। ফলে সিলেট বিভাগের সবচাইতে দীর্ঘ সেতুটি রাজধানীর সাথে জেলার যোগাযোগ স্থাপনে সেই অর্থে পরিপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে না। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে পাগলা-জগন্নাথপুর-সৈয়দপুর সড়কের হবিগঞ্জ অংশে রয়েছে ১০ কিলোমিটার । ওই দশ কিলোমিটারের সাড়ে তিন কিলোমিটারের মত সড়ক খুব সংকীর্ণ। বড় গাড়ি চলাচলের উপযোগী নয়। এছাড়া সুনামগঞ্জ অংশের বমবমি বাজার সংলগ্ন এবং কাটাখাল সংলগ্ন বেইলি সেতুর অবস্থাও খুব খারাপ। ওই দুই জরাজীর্ণ সেতু ও সাড়ে তিন কিলোমিটার সংকীর্ণ সড়ক দিয়ে বড় গাড়ি চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ। ফলে বড় গাড়ির চালকরা এই সড়ক এড়িয়ে চলছেন।
একটি সেতু মানে বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বন্ধন তৈরি করে। পাগলা-জগন্নাথপুর-সৈয়দপুর সড়ক ও কুশিয়ারা সেতু ব্যবহার করলে সুনামগঞ্জ থেকে রাজধানী পর্যন্ত যাতায়াতে দেড়/দুই ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হয়। এই সড়কটির উপযুক্ততা বাড়াতেই রানীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর তৈরি করা হয়েছে বিভাগের সবচাইতে বড় সেতু। কিন্তু এখন সামান্য সড়ক অংশ ও দুই সেতুর যে প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে তা দূর না হওয়া পর্যন্ত এই সেতুর পূর্ণ সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি দুঃখজনক। যেকোনো উন্নয়ন কাজের আগে পরিপূর্ণ পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে। বড় সেতু দিয়ে বড় গাড়ি চালাতে হলে উভয় পাশের সড়ক ও সেতুকেও যথোপযুক্তভাবে উন্নয়ন করতে হয়। তাই সেতুর পরিকল্পনার সাথে রাস্তার উন্নয়ন পরিকল্পনাও এক সুতোয় গাঁথা। এই সড়কের বেশ কয়েকটি পুরনো সেতু ভেঙে সুপরিসর নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রদীপের নীচে অন্ধকারের মতো বমবমি ও কাটাখাল সেতু দুইটিকে রেখে দেয়া হয়েছে সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে। কেন এই খ-িত পরিকল্পনা? মানুষ যখন বহু অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সুপরিসর রানীগঞ্জ কুশিয়ারা সেতুর সদ্ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা এই উন্নয়নের মর্ম উপলব্ধি করতে অক্ষম হবে। এর উপজাত হিসাবে সমালোচনা তৈরি হবে। একে উপেক্ষা করার অবকাশ নেই। এজন্য দায়ী সেইসব পরিকল্পক যারা বর্ণিত সড়কের উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিলেন তারা। আমাদের দেশে বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনুরূপ খ-িত ও অপূর্ণাঙ্গ চিত্র দেখা যায়। যে উদ্দেশ্য নিয়ে যে কাজ করা হয় তার পূর্বাপর সবকিছু বিবেচনায় না নিলে যে দুরবস্থা তৈরি হয় পাগলা-জগন্নাথপুর-সৈয়দপুর সড়কেও এখন তাই হয়েছে।
সড়ক বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ওই সরু সড়ক ও জরাজীর্ণ দুই সেতু উন্নয়নের কথা এখন বলছেন বটে। তবে এই কাজ শেষ হতে তো আরও বহুদিন সময় লাগবে। যাই হোক আমরা চাই কাজটি দ্রুত শুরু হোক। এজন্য যা করা দরকার অগ্রাধিকার দিয়ে তা করা হোক। কারণ সড়কের সবচাইতে ব্যয়বহুল কাজÑ কুশিয়ারা সেতু নির্মাণ শেষ হয়েছে। এখন একে ব্যবহারের সুযোগ দিতে অপরাপর কাজগুলো যত তাড়াতাড়ি শেষ করা যাবে তত মঙ্গল। কুশিয়ারা সেতুটিকে বন্ধন ও সংযুক্তির অনুপম উপলক্ষ করতে হলে এই কাজ দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হলো সবচাইতে জরুরি।