সাম্প্রদায়িকতা রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার
দেশের বিভিন্নস্থানে হিন্দু ধর্মালম্বীদের পূজামণ্ডপ ও বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভর সুনামগঞ্জ শহরে সম্প্রীতি সমাবেশ, শান্তি শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা যেখানেই সাম্প্রদায়িকতা সেখানেই রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অপশক্তি রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়তে হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেছেন, মরমি সাধক রাধারমণ, হাসন রাজা, শাহ্ আব্দুল করিম ও দুর্ব্বিন শাহ্’এর জেলা এটি। অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চর্চা দেখছি শৈশব থেকেই, চলার পথে কে হিন্দু, কে মুসলমান সেটি চিন্তায় আনিনি কখনো। আজকে হায়নার দল বিএনপি, জামায়াতের কুচক্রিরা সুনামগঞ্জসহ বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশকে তারা অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্যই আজ দেশব্যাপী শান্তি ও সম্প্রীতি সমাবেশ। যেখানেই সাম্প্রদায়িকতা সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে নুরুল হুদা মুকুট বলেন, নিরীহ বা সংখ্যালঘুদের বাড়ীঘরে হামলাকারীদের কোন ধর্ম নেই, ওরা লুটেরা দুর্বৃত্ত, এদের দাতভাঙা জবাব দিতে হবে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তির মিছিল শেষে সমাবেশে নুরুল হুদা মুকুট এসব কথা বলেন।


সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে রমিজ বিপণির কার্যালয় থেকে শান্তির মিছিল বের হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশ করেন নেতাকর্মীরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর চন্দ্র দাস ও জুনেদ আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কর, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপংকর কান্তি দে প্রমুখ।
একই সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন’এর নেতৃত্বে শহরের আলফাত স্কয়ার থেকে সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি মিছিল বের হয়। মিছিলটি কালীবাড়ী চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক অ্যাডভোকেট নান্টু রায় ও হায়দার চৌধুরী লিটন, দলীয় নেতা আব্দুল কাদির শান্তি মিয়া, মফিজুল হক, শাহ্ আবু নাসের, আতিকুর রহমান, ঝুটন পুরকায়স্থ, অ্যাডভোকেট সবিতা চক্রবর্তী প্রমুখ।
বিকেলে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সমাবেশ হয় কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-সাংবাদিকদের ব্যানারে।


কবি ও সাংবাদিক শামস শামীমের সঞ্চালনায় ও কথাসাহিত্যিক সুখেন্দু সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সাংবাদিক বিজন সেন রায়, শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল আবেদিন, প্রদীপ পাল নিতাই, সাংবাদিক পঙ্কজ দে, খলিল রহমান, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জহির আহমদ সোহেল, যুবনেতা আবু তাহের, ছাত্রনেতা আসাদ মনি প্রমুখ। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণ করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির নেতৃবৃন্দ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের রূখতে সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন। এজন্য সমাজের অগ্রসর শ্রেণি, মুক্তবুদ্ধির মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের রূখতে না পারলে আগামীতে দেশের অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে। বক্তারা বলেন, যে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সারাদেশে মন্দির-মুর্তি ভাংচুর করছে তারা সন্ত্রাসী, তাদের আর কোন দ্বিতীয় পরিচয় নেই। এই সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে হলে বক্তারা একাত্তরের চেতনায় ফিরে গিয়ে বাহাত্তরের সংবিধানকে কার্যকর করার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কবি ইকবাল কাগজী, কবি ও গল্পকার কুমার সৌরভ, প্রাবন্ধিক এনামুল কবির, সম্মিলিত সাস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দেবদাশ চৌধুরী, সাংবাদিক জোনায়েদ আহমদ সৃজন, সাবেক ছাত্রনেতা দ্বীপাল ভট্টাচার্য্য, কবি ও গীতিকার সূর্যসেন, সংস্কৃতিককর্মী মঞ্জু চৌধুরী, সন্তোষ কুমার চন্দ, সংস্কৃতিকর্মী অনীশ তালুকদার বাপ্পুসহ শিল্প ও সাহিত্যাঙ্গনের কর্মীরা।
বিকেল পাঁচটায় পৌর চত্বর থেকে পৌর মেয়র নাদের বখ্ত ’এর নেতৃত্বে বের হয় সম্প্রীতি শোভাযাত্রা। শহরের বিভিন্ন শেণি পেশার মানুষ এই কর্মসূচীতে অংশ নেন। শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে আবার পৌর চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
বিশাল এই সম্প্রীতি শোভাযাত্রায় ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, আওয়ামী লীগ, শিল্পকলা একাডেমি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ, জেলা আইনজীবী সমিতি, ছাত্রলীগসহ নানা সংগঠন ও নাগরিকরা অংশ নেন।
সম্প্রীতি মিছিল শেষে পৌর কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পৌর মেয়র নাদের বখত।


নাদের বখ্ত বলেন, সুনামগঞ্জ সম্প্রীতির শহর, এখানকার সামাজিকতা হিন্দু-মুসলমান মিলে। কোন অপশক্তি দীর্ঘদিনের এই সংস্কৃতি বিনষ্ট করতে পারবে না। আমরা তা হতেও দেব না। আজকের সম্প্রীতির মিছিলের উপস্থিতিও সেটি প্রমাণ করেছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নোমান বখত পলিন, প্যানেল মেয়র আহমেদ নূর, ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রকিব, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট চান মিয়া, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহ সভাপতি প্রদীপ পাল নিতাই, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল আবেদীন, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সেলিম আহমেদ, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক অ্যাডভোকেট খলিল রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনূর রশিদ, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী প্রমুখ।
দুপুরে আলফাত স্কয়ার থেকে জেলা যুবলীগ এবং বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে শহরে সম্প্রীতি শোভাযাত্রা বের করে।