সাম্প্রদায়িক প্রচারণাও আছে দিরাই পৌরসভার প্রচারণায়

স্টাফ রিপোর্টার
অপেক্ষাকৃত রাজনৈতিক সচেতন, প্রয়াত রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের শহর হিসাবে পরিচিত সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভা নির্বাচন আগামীকাল শনিবার। এই পৌরসভার ২১ হাজার ৩৭৯ জন ভোটার প্রথমবারের মতো ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দিয়ে জন প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন এবার।
নির্বাচনে মেয়র পদে ৮, কাউন্সিলর পদে ৩৯, সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ জন লড়ছেন। মেয়র পদে দিরাই পৌরসভার বর্তমান প্যানেল মেয়র দিরাই ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি বিশ^জিৎ রায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থী উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক মোশারফ মিয়া, দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কদ্দুছ মিয়ার ভাই বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুমও স্বতন্ত্র প্রার্থী।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা হাফিজ লোকমান আহমদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অনন্ত মল্লিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিক মিয়া এবং রশিদ মিয়াও ভোটে লড়ছেন।
হওরাঞ্চলের অসাম্প্রদায়িক এই পৌর শহরে নির্বাচনী প্রচারণায় সাম্প্রদায়িক নানা কথাও শেষ মূহূর্তে ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে কোন কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
গণমাধ্যম কর্মী আবু হানিফ চৌধুরী বললেন, শেষ মূহূর্তে সাম্প্রদায়িক প্রচার প্রপাকা-ও ছড়াচ্ছেন কোন কোন প্রার্থী। এই পৌরসভায় যা এর আগে কখনো হয় নি।
প্রচারণার শেষ মূহূর্তে শনিবার দুপুরে বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারাভিযানে প্রশাসনের কোন পক্ষপাতিত্ব চোখে পড়েনি। তবে ভোটের আগের রাত এবং ভোটের দিন এবং ফলাফল ঘোষণায় সরকারি প্রশাসনকে কাজ লাগিয়ে ফলাফল পাল্টে দেবার শঙ্খা রয়েছে তাঁর নিজের এবং তাঁর সমর্থকদের মধ্যে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিশ^জিৎ রায় মনে করেন নির্বাচন এই সরকারের সময়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়ে আসছে। দিরাইয়ের ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করেন তিনি। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশারফ মিয়ার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচার দেবার অভিযোগ আনেন তিনি। বিশ^জিৎ রায় বলেন, দল থেকে বহিস্কারের পর সাম্প্রদায়িক প্রচারণা দিয়ে বেড়াচ্ছেন মোশারফ মিয়া। তার এমন বক্তব্য গিলছে না মানুষ।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশারফ মিয়া বললেন, আমাকে বহিস্কার করা হয় নি। আমার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচার দেবার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নির্বাচনী এলাকায় সাম্প্রদায়িক প্রচার প্রপাকা- কখনোই চলে না।