‘সাহিত্য নিজস্ব গতিতে চলমান’

স্টাফ রিপোর্টার
নীতিনিষ্ঠ কর্মকর্তা কবি ও গল্পকার ‘কুমার সৌরভের সংবর্ধনা ও অবসর ভাবনা’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র সুনামগঞ্জের আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন লেখক সুখেন্দু সেন।
সভায় কবি ইকবাল কাগজী বলেন, সুনামগঞ্জের সাহিত্য স্থবির নয়, এটা তার নিজস্ব গতিতে চলমান। সাহিত্য চিরকালই সাহিত্যের জায়গায় থাকবে। এটা ঠিক আমরা উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্য রচনা করতে পারছি না। এটা শুধু সুনামগঞ্জের ব্যর্থতা নয়, সারাদেশেই একই রকম। কারণ আমরা মেধায় ও চিন্তায় ছোট।
তিনি বলেন, আজকে যাকে নিয়ে কথা বলতে হবে তিনি আমার বন্ধু। তিনি দাসত্ব থেকে মুক্তি নিয়েছেন তাঁকে আমি অভিনন্দিত করি। তিনি খুব উৎকৃষ্ট মানের কিছু লিখেন নি। কিন্তু তিনি যা লিখেছেন সুনামগঞ্জে তা লেখা আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমেদ’র পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন কবি ইকবাল কাগজী, জেলা সিপিবি’র সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এনামুল কবির , দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মসিউর রহমান, সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) অনুপ নারায়ণ তালুকদার, প্রথমআলোর নিজস্ব প্রতিবেদক অ্যাডভোকেট খলিল রহমান, কবি ও প্রাবন্ধিক এস ডি সুুব্রত, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাছান শাহীন, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের।
এসময় উপস্থিত ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি বাদল সরকার, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মহিম, সহসভাপতি আকরাম উদ্দিন, জাতীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আমির উদ্দিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল আলম ছদরুল, এনটিভির বেলা প্রতিনিধি দেওয়ান গিয়াস, চ্যানেল ২৪ এর জেলা প্রতিনিধি এ আর জুয়েল, জেলা যুব ইউনিয়ন নেতা শাহ কামাল, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আসাদ মনি, সাধারণ সম্পাদক নিমাই সরকার, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম।


সভায় বক্তারা বলেন, মাসে অন্তত একটি সাহিত্য সভার আয়োজন করতে হবে। সভায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতে হবে। উৎসাহিত করার জন্য পত্রিকায় সপ্তাহে অন্তত একদিন সাহিত্য পাতা করা যেতে পারে। পঠন-পাঠন সমাজ চাইলে সাহিত্য চর্চা করতে হবে, সাহিত্য চর্চায় উৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই বুদ্ধি ভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে।
বক্তারা বলেন, আমরা তাঁর কবিতা পড়ে বড় হয়েছি। তিনি সাহিত্যের লোক, আগেও ছিলেন এখনও আছেন। তাঁর কবিতায় আছে বেদনা, আগের কবিদের মতো। তাঁর অনুভূতি, আবেগ ও কল্পনাকে অনিবার্য শব্দ সমবায়ে উপস্থাপন করেন কবিতায়। যা পাঠকের মনে স্থায়ী আসন লাভ করে।
বক্তারা বলেন, তিনি লেখালেখিতে আরো মনোযোগ দেবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আজকের এই অনুষ্ঠানের পর আমাদের সাহস আরো বাড়বে। এখানে উপস্থিত সুধীজন আমাদের গাইড করলে সুনামগঞ্জের সাহিত্য অঙ্গণ আবারো মুখরিত হয়ে উঠবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, সৌরভ ভূষণ দেব (কুমার সৌরভ) সম্প্রতি বিআরডিবির কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি একাধারে কবি ও গুণী লেখক। কর্মজীবনে তিনি নীতি নিষ্ঠ ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।