সিজন অব বাংলা ড্রামায় যুক্তরাজ্য উদীচীর ‘অজ্ঞাতনামা’

যুক্তরাজ্যের প্রাচীনতম নগরী লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত, মাসব্যাপী নাট্যোৎসব-“সিজন অববাংলা ড্রামায়” উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী যুক্তরাজ্য সংসদ প্রতি বছরের মত এবারও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী একটি নাটক -“অজ্ঞাতনামা” মঞ্চস্থ করে।
নাটকটিতে বাংলাদেশের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, ধর্মের অপব্যাখ্যা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ওজনসচেতনা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানবতার জয়গান করা হয়েছে।
অন্যায়-অত্যাচার, শোষন-বঞ্চনার প্রতি উদীচী বরাবরের মত সাহসী ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য-ধর্মী এ নাটক বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাবে বলে সংগঠনটির বিশ্বাস।
নাটকটির রচনা করেছেন ডক্টর অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী। পরিচালনা করেছেন ডাক্তার রফিকুল হাসান জিন্নাহ। সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহকারী নির্দেশনায় শেখ নুরুল ইসলাম ।
এছাড়াও নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- মুর্শিদ উদ্দিন আহমেদ (অশ্রু কেন্দ্রীয় চরিত্র), হেলেন ইসলাম (বীরাঙ্গনা), কাজী নজরুল ইসলাম (পুলিশের এস,আই), মতিউর রহমান তাজ (কনস্টেবল), মোহাম্মদ অনুপম রহমান (কনস্টেবল), শামসুদ্দিন আহমেদ (বিতর্কিত মৌলানা), শেখ নুরুল ইসলাম (গ্রামের বিশিষ্ট জন), ফারুক সর্দার, জুবের আক্তার সোহেল (সাধারণ সম্পাদক), রেজাউর রহমান রেজা (বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী), বাবলু দে, অসীমা দে(পূজা মন্ডপে পূজারী), মিশেলদে, তোরা দে, হামিদা ইদ্রিস প্রমুখ। আবহ সংগীতে গোপাল দাস। কারিগরী সহযোগীতায় সোনা মিয়া, জিয়াউর রহমানসাকলায়েন ও নাজিম উদ্দিন। ফটোগ্রাফি আমিনুর রহমান খান। আর অফুরন্ত উৎসাহ ও ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন দফতর সম্পাদক সুলতানা রশিদ জলি ও যুক্তরাজ্য উদীচীর সভাপতি হারুন অর রশিদ।
“অজ্ঞাতনামা” নাটকটি সময়োপযোগী হওয়ায় লন্ডনের সচেতন মহল ও নাট্যানুরাগীদের যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দর্শক গ্যালারী হতে রাজনীতিবিদ কমরেড আবেদ আলী আবিদকে উদীচীর নাটক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন ‘ আমাদের দেশে ছেলেমেয়েদের এখন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলমান। খুব খারাপ লাগে পরীক্ষার প্রশ্ন পত্রেও সাম্প্রদায়িকতার নগ্নতা। এখানে এতো কর্মব্যস্ততার মাঝেও উদীচীর শিল্পীরা কে কতোটুকু পারফর্মেন্স করেছেন সেটার চেয়ে বরং উদীচী বর্তমান সমাজে সাম্প্রদায়িক অসুস্থতার বিষয়টি মঞ্চস্থ করেছে সেটিই খুব ভাল লাগছে। ধন্যবাদ পরিচালক সহ উদীচীর সকলকলাকৌশলী শিল্পীবৃন্দকে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সূচনা কালে ঢাকাসহ সারা দেশ যখন উত্তাল মিছিল-মিটিংয়ে তখন উদীচী করেছে পথনাটক ‘সামনে লড়াই’। ১৯৬৮তে বাংলা একাডেমীতে করেছে মঞ্চনাটক ‘আলো আসছে’। ১৯৬৯ সালে করেছে আইয়ুব বিরোধী পথনাটক ‘শপথ নিলাম’। এর পরই জহির রায়হানের ‘পোস্টার’ গল্পের নাট্যরূপ দিয়ে পথ নাটক।
১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকা-ের পর সারাদেশ তখনো স্তব্ধ মুখ। কেউ কোন কথা বলে না। এরপর ১৯৭৬ এর একুশের অনুষ্ঠান। সেন্টু রায়ের পরিকল্পনায় ৬ ফুট উচ্চতায় খালি মাইক্রোফোন, ডায়াসে পাইপ আর চশমা রেখে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ।
এর পরপরই মাহমুদ সেলিমের নেতৃত্বে রচিত হয় গীতিআলেখ্য ‘ইতিহাস কথা কও’। মঞ্চস্থ হয় ১৯৭৬ এর ১৬ ডিসেম্বরকেরানীগঞ্জের ইস্পাহানী কলেজের মাঠে। এর পরে ১৯৭৭ সালের ২১ ফেব্র“য়ারিতে রমনা বটমূলে “ইতিহাস কথা কও” এরনির্ধারিত মঞ্চায়ন যখন নিষিদ্ধ হয় তখন সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রোকেয়া হলের সামনের রাস্তায় ১৫/২০ হাজার দর্শকেরসামনে এটি মঞ্চায়িত হয়।
এভাবেই স্বাধীনতার উষালগ্ন হতে স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলন, যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণজাগরন মঞ্চ, সম সাময়িক বিভিন্ন অসংগতির প্রেক্ষিত, সাম্প্রদায়িক উন্মাদনার বিরোদ্ধে উদীচী নাটক করে তার ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি