সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া/ জেলায় দেড়লাখ পরিবার ছিল ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন

বিশেষ প্রতিনিধি
সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ায় কোথাও বিদ্যুৎ লাইনে ছিঁড়ে গেছে, কোথাও বা বিদ্যুৎ লাইনে গাছ উপড়ে পড়েছে, কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে সোমবার রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার বেলা দুইটা পর্যন্ত জেলার সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, জগন্নাথপুর, দিরাই ও শাল্লার প্রায় দেড় লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন ছিলেন। মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেও বেশিরভাগ এলাকা বেলা দুইটা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন ছিল। এ রিপোর্ট লেখার সময় (বিকাল ৪ টা) পল্লী বিদ্যুতের ৩৫ হাজার এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কয়েক হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন।
সোমবার রাত ১১ টা থেকে সুনামগঞ্জ শহরের বেতগঞ্জ, আমবাড়ি ও দিরাই ফিডারে বিদ্যুৎ ছিল না। একারণে ওই ফিডারগুলোর এলাকা নতুনপাড়া, হাছননগর, বাঁধনপাড়া, শান্তিবাগ, আপ্তাবনগর, বুড়িস্থল, ষোলঘর, বনানীপাড়া, মাইজবাড়ি, মোহাম্মদপুর এবং শহরতলির হালুয়ারগাঁওয়ের পর থেকে দিরাই শাল্লার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ১০ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। কোন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৪ টা) দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়নের বোর্ডের সরবরাহ লাইন চালু হয় নি।
পল্লী বিদ্যুতের প্রায় সোয়া লাখ গ্রাহক সোমবার রাত একটা থেকে মঙ্গলবার দুইটা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন।
এরমধ্যে তাহিরপুর ও জগন্নাথপুর উপজেলার বেশ কিছু এলাকার ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইন খারাপ হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছিলেন গ্রাহকরা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচরের গ্রাহকরা মঙ্গলবার বেলা দুইটায় বিদ্যুতের দেখা পান। তবে ওই এলাকার ইব্রাহিমপুর, সৈয়দপুর ও মুসলিমপুরে বিকাল তিনটা পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা মিলে নি।
তাহিরপুরের বৃহৎ বাজার বাদাঘাট এলাকার আহসানুল হক জানালেন, সোমবার রাত দশটার পর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত একনাগারে বিদ্যুৎহীন ছিলেন তারা। এই সময়ে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা ও কারখানা বন্ধ ছিল।
পল্লী বিদ্যুতের জিএম সুদীপ কুমার বিশ^াস জানালেন, অনেক এলাকায় খুঁটি ভেঙেছে। সরবরাহ লাইনে গাছ গাছালি উপড়ে পড়েছে। এ কারণে রাত ১১ টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত সোয়া লাখের মতো গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। কর্মীরা দ্রুত কাজ করায় বেশিরভাগ এলাকায় বেলা দুইটায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। জেলার তিন লাখ ৬৯ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৩৫ হাজার গ্রাহককে বিকাল সাড়ে তিন টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ দেওয়া যায় নি জানালেন তিনি। তবে সন্ধ্যার আগে সকল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানালেন, রাত থেকে আমবাড়ি, বেতগঞ্জ ফিডারসহ দিরাই-শাল্লার গ্রাহকরা বিদ্যুৎ পান নি। সকাল থেকে কর্মীদের চেষ্টায় দুপুর সাড়ে ১২ টার মধ্যে বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। কেবল দিরাইয়ের ভাটিপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় নি।