সিলেট- সুনামগঞ্জ সড়ক ৪ লেন’র দাবিতে সরব সুনামগঞ্জ

আসাদ মনি
সুনামগঞ্জ- সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ককে ৪ লেন করার দাবি উঠেছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা- সিলেট চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এই দাবি উঠেছে। সাধারণ মানুষ বলেছেন, ধান- মাছে ভরপুর সুনামগঞ্জে ৪ লেন সড়ক করার যৌক্তিকতা রয়েছে। এছাড়াও ব্যবসা ও পর্যটনকে সহজ করতে এই সড়ককে উন্নতর যোগাযোগের ব্যবস্থার আনা জরুরি বলে মনে করছেন শহরের বিশিষ্টজনেরা।
সাধারণ মানুষ বলছেন, হাওর বাওরের জেলা সুনামগঞ্জে ২৫ লাখ মানুষের বাস। এই জেলার যোগাযোগ সড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই জেলার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে জাতীয় অর্থনীতিতে এই জেলা ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন জেলাবাসী। ধান ও মাছের উপর নির্ভর করে সুনামগঞ্জের অর্থনীতি গড়ে উঠলেও বছরের নিদিষ্ট একটা সময়ে জেলার বেশিরভাগ মানুষকে থাকতে হয় বেকার। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ লেক, মরমী কবি হাসন রাজা, রাধারমণ, শাহ্ আব্দুল করিমসহ অসংখ্য লোকসংস্কৃতির মহাজনদের জন্মভিটা দেখার জন্য এই জেলায় আসা পর্যটকদের যাতাযাত সুবিধা বৃদ্ধি হবে সড়কটি চার লেন হলে।

সংস্কৃতিকর্মী দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, সুনামগঞ্জে মানুষ বেড়েছে। এখনও সেই মান্দাতা আমলের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয় দুর্ভোগ সহ্য করে। এই সড়কের জন্য প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আজকেও পাগলা বাজার এলাকায় বাস গিয়ে ডুবায় পড়েছে। যদি সড়ক ৪ লেন করা না হয়, তাহলে এরকম দুর্ঘটনারোধ করা সম্ভব নয়।

গণমাধ্যমকর্মী আহমেদ মুজতবা রাজী বলেন, সুনামগঞ্জে ৩৭০০ কোটি টাকার বিশ্ববিদ্যালয়, ১২০০ কোটি টাকার মেডিকেল কলেজ আসতে পারে। তবে কেন ১৪০০ কোটি টাকার ৪ লেন মহাসড়ক (সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ) সিলেটে এসে থেমে যায়? এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে সুনামগঞ্জে মানুষের সংখ্যা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে। এতে যানবাহনও বৃদ্ধি পাবে। সড়ক প্রশস্ত না হলে যানবাহনের চাপ সামলাতে পারবে না।

শিক্ষাবিদ ন্যাথানায়েল এডউইন ফেয়ারক্রস বলেন, সুনামগঞ্জ যদিও বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত জেলা শহর। জেলাটি আগের চেয়ে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, ভবিষত্যেও আরও হবে। সিলেট সুনামগঞ্জের বর্তমানে যে সড়কটি রয়েছে বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলা শহর থেকে জেলা শহরের যোগাযোগ সড়কের মতো। একটি বিভাগীয় শহর থেকে তার জেলা শহরে যেতে যে সড়ক প্রয়োজন, এটাতো সেই সড়ক নয়। অনেক ছোট এবং চিকন। সুনামগঞ্জের যারা মঙ্গল চায়, তাঁরা অবশ্যই এই দাবির সঙ্গে একম হবেন।

সুনামগঞ্জ- ৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এই সড়ককে ৪ লেন সড়কের দাবীতে রয়েছেন সরব। সুনামগঞ্জ সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ককে ৪ লেন করার দাবিতে সুনামগঞ্জবাসির ব্যানারে মানববন্ধনে আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বক্তা থাকবেন তিনি। বিকাল সাড়ে ৩টায় আলফাত স্কয়ারে এই মানববন্ধন হবে। গেল ৩ মার্চে তিনি তাঁর ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সম্প্রতি একনেকে ঢাকা- সিলেট সড়ক ৪ লেন অনুমোদন হয়েছে। অনুমোদনের বেশ কয়েক মাস আগে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে মত বিনিময় করেছিলেন। সেখানে আমি সড়কটি সুনামগঞ্জ পর্যন্ত চার লেন করার জন্য দাবী জানিয়ছিলাম। পরবর্তীতে মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি উপস্থাপন করি। কিন্তু হয়নি। সুনামগঞ্জের মানুষের জন্য এটি হতাশার। এর আগে ঢাকা-সিলেট সড়ক প্রশস্ত হবার সময়ও সুনামগঞ্জ বঞ্চিত হয়েছে। এবার চার লেনেও সুনামগঞ্জ নাই। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যায় করে সিলেট পর্যন্ত চার লেন হবে। সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত ৬৭ কিলোমিটারের ব্যায় কোন সমস্যা হবার কথা নয়। সমস্যা হল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি যুক্তিসঙ্গতভাবে উপস্থাপন করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের উন্নয়নে আন্তরিক। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের মানুষকে অনেক বড় বড় প্রকল্প উপহার দিয়েছেন। এবার যদি চার লেন সড়ক থেকে আমরা বঞ্চিত হই, তবে আর কখনো সুনাসগঞ্জের মানুষের জন্য এই সুযোগ আসবে কি না জানি না। আমি মনে করি এখনও সময় শেষ হয়ে যায় নি। আসুন একাত্ম হই। দাবী জানাই। ব্যাক্তি কেন্দ্রীক চিন্তায় আমার কি লাভ? এর থেকে বের হতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাতে হবে ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত চার লেন সড়ক উপহার দেয়ার জন্য।’

জানা যায়, ঢাকা-সিলেট চার লেন প্রকল্পে মোট ব্যয় ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়ন করা হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। আলাদা সার্ভিস লেনসহ সড়ক নির্মাণে অতিরিক্ত ৯৮৬ দশমিক ৪৭ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। এ জন্য ব্যয় হবে চার হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণে কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত ইউটিলিটিও স্থানান্তর করা হবে, নির্মাণ করা হবে ৩২১টি আরসিসি কালভার্ট। কালভার্টগুলোর মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় এক হাজার ৩৮১ মিটার। ছোট-বড় ৭০টি ব্রিজসহ থাকবে পাঁচটি রেলওয়ে ওভারপাস।