সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়/ জমি অধিগ্রহণ বাণিজ্য বন্ধ করা হোক

গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নির্ধারিত জায়গায় একটি চক্রের মাধ্যমে বেশি দামে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে একটি খবর প্রকাশ হয়েছে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আহসানমারা সেতুর পাশে দেখার হাওরে ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রীসহ জেলার সকল সংসদ সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ওই জায়গার বিষয়ে একমত হয়েছেন। মূলত এরপর থেকেই একটি চক্র নির্ধারিত জায়গার জমি কম দামে কিনে বেশি দামে রেজিস্ট্রি করে পরে সরকারের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছেন বলে জানা যায়। এই অপতৎপরতার বিষয়টি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের নজরেও এসেছে। গত সোমবার জেলা প্রশাসক একটি চিঠি দিয়ে সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাবরেজিস্ট্রারগণকে মৌজার জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সরকারি মূল্য তালিকা অনুসারে সংশ্লিষ্ট মৌজাগুলোতে জমির দাম প্রকার ভেদ অনুসারে প্রতি শতাংশ ৪ হাজার টাকা থেকে ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। জমি ব্যবসায় তৎপর চক্রটি এই নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন।
কিছুদিন আগে দেশের চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত মূল্য দাবি ও এ নিয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের অনমনীয় ভূমিকার কথা আমরা সংবাদপত্রসূত্রে জেনেছি। চাঁদপুরে বেশি দামে জমি কেনা-বেচার সাথে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক মদদপুষ্ঠ গোষ্ঠীর খবর সামনে এসেছে। সুনামগঞ্জের ক্ষেত্রে যাতে অনুরূপ ন্যাক্কারজনক ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে আগে থেকেই তৎপর হওয়ার জন্য আমরা জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি তাঁর সময়োচিত ভূমিকার কারণে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুপাটের মতো ঘটনা এখানে ঘটবে না।
যেখানে অধিগ্রহণের জন্য জমি চিহ্নিত হয়ে গেছে। কিছুদিনের মধ্যেই অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তখন কেন এই চিহ্নিত জায়গাগুলো এখন কেনা-বেচা করতে হবে? জমির মালিকদের সাথে সমন্বয়পূর্বক তাদের জমি বিক্রি থেকে বিরত রাখা যায়। তাহলেই কোনো কুচক্রিমহল অন্যায্য ও অন্যায় অর্থ লুটপাটের সুযোগ পাবে না। তবে জোর করে কাউকে জমি কেনা-বেচা থেকে বিরত রাখা যায় না। অন্যদিকে অসাধু যে চক্র এরকম কাজে নিয়োজিত থাকে তারা নিজেদের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি ব্যবহার করে জমির মালিকদের বাধ্য করেন জমি বিক্রি করতে। এই জায়গায় সংশ্লিষ্ট সাবরেজিস্ট্রারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা সরকারি স্বার্থ রক্ষায় বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধ থাকলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে জমি কেনা-বেচার দলিল সম্পাদন করবেন না। কেবল তাহলেই সরকারি স্বার্থ রক্ষিত হবে। কিন্তু সাবরেজিস্ট্রাররা কি তা করবেন? আমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের অভ্যন্তরে কী পরিমাণ অনৈতিক কর্মকা- চলে তা জানি। এই অফিসকে কেন্দ্র করেই অসাধুচক্র সক্রিয় থাকে। পারষ্পরিক স্বার্থ আদায়ের জন্য এই অফিসের সাথে জড়িত সকল পক্ষই এসব অবৈধ কাজে ইন্ধন দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসককে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। এখন থেকেই দৈনিক ওই দুই সাবরেজিস্ট্রি অফিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চিহ্নিত জায়গার কী পরিমাণ জমি ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে এবং কত দামে তা রেজিস্ট্রি হচ্ছে তার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রাপ্ত তথ্যে ব্যত্যয় দেখা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তথ্য সংগ্রহের এই কাজটি খুব জটিল নয়। আমরা চাইব জেলা প্রশাসকের কার্যালয় আজ থেকেই এই কাজ শুরু করুন।
সরকারি কোষাগারের টাকা জনগণেরই টাকা। কৌশল ও ছলচাতুরি করে এই টাকা কিছু লোক লুটপাট করে নিয়ে যাবে তা কখনও হতে দেয়া যাবে না।