সুনামগঞ্জ রেডিও স্টেশন করার উদ্যোগ থমকে গেছে

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে পূর্ণাঙ্গ রেডিও স্টেশন করার উদ্যোগ থমকে গেছে। জমি অধিগ্রহণের টাকা সময়মত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দিতে না পারায় এই প্রক্রিয়া শুরুতেই বিলম্বের পর্যায়ে পড়ে গেছে। বাংলাদেশ বেতারের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী অবশ্য বলেছেন, উদ্যোগটি চলমান আছে, জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াটি নতুন করে করতে হবে।
প্রায় চার বছর আগে ২০১৭ সালের জুন মাসে জেলা প্রশাসনের জমি বাছাই কমিটি রেডিও স্টেশনের জন্য জমি নির্বাচন করেছিলেন। সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুরে বিজিবি ক্যাম্পের উত্তর পাশে (পুকুরের পাশে) এক একর ৫৭ শতক জমি নির্ধারণ করা হয়েছিল রেডিও স্টেশনের জন্য। সুনামগঞ্জের সন্তান তৎকালীন তথ্যসচিব বর্তমানে তথ্য কমিশনের চেয়ারম্যান মরতুজা আহমদ’এর প্রচেষ্টায় আকাক্সিক্ষত এই প্রতিষ্ঠানটি সুনামগঞ্জে হবার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছিল।
জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা যায়, শহরের মল্লিকপুর এলাকার ১০২৪ নম্বর দাগের ৫৮৭ খতিয়ানের এক একর ৫৭ শতক জমি রেডিও স্টেশনের প্রয়োজনে অধিগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছিল। জেলা ভূমি বরাদ্দ সভায় অনুমোদনের পর বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষের নিকট অর্থ বরাদ্দের চিঠি দেওয়া হয় ওই সময়।
১২০ দিনের মধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য পরিশোধ করার কথা। এই সময় পার হয়ে আরও ৫-৬ মাস যাবার পরও বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষ টাকা দেন নি। শেষে জেলা প্রশাসন এই জমির অধিগ্রহণ কার্যক্রম বাতিল করে ২ মাস আগে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসিম উদ্দিন জানান, জমির অধিগ্রহণ কার্যক্রম বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারির পর, বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি আবার চিঠি দিয়েছেন, নতুন প্রাক্কলন তৈরি করে আমরা যেন চিঠি পাঠাই। আমরা জানিয়েছি, এটাও সম্ভব নয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন জানালেন, তারা জানিয়ে দিয়েছেন, এখন আবার সবকিছুই নতুন করে করতে হবে, জমি বাছাই, ৩ ধারার নোটিশসহ সকল কার্যক্রমই নতুন করে করতে হবে। তাতে কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্বিত হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রস্থাবিত সুনামগঞ্জের পূর্ণাঙ্গ এই রেডিও স্টেশনে ৩ তলা প্রশাসনিক ভবন, স্টুডিও ব্লক, ৬০ ফুট উচ্চতার এন্টিনা টাওয়ার, বিদ্যুতের সাবস্টেশন, পুলিশ ব্যারাক ভবন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুটি আবাসন ভবন, অ্যাটেন্ড স্টেশন এবং রিসিপসন ভবন হবার কথা ছিল।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, কেবল সুনামগঞ্জ নয়, হাওরাঞ্চল বা ভাটি অঞ্চলের মানুষের উপকারে আবহাওয়ার পূর্বাবাস জানানো, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচারণা দেবার পরিকল্পনা রয়েছে এই স্টেশন থেকে। একই সঙ্গে থাকবে বিনোদনও।
এলাকার সংস্কৃতির লালন, বিকাশ, শিল্পী তৈরি করা, শিল্পী ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে পৌঁছে দেবার সম্প্রচার কার্যক্রম হবার কথা রয়েছে সুনামগঞ্জ রেডিও স্টেশন থেকে।
বাংলাদেশ বেতারের স্টেশন প্রকৌশলী মনোয়ারুল হক বললেন, সুনামগঞ্জের পূর্ণাঙ্গ রেডিও স্টেশন স্থাপন কার্যক্রম চলমানই আছে। জমি অধিগ্রহণের আগের প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়ে গেছে। পুরো প্রক্রিয়াটিই আবার নতুন করে করতে হবে। সেটিও শুরু হবে শীঘ্রই।