সুনামগঞ্জ শহরে ব্যাটারি চালিত অবৈধ রিক্সা বেড়েছে

আসাদ মনি
সুনামগঞ্জ শহরে ব্যাটারি চালিত ঝুঁকিপূর্ণ তিন চাকার অবৈধ রিক্সা বেড়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসহ প্রতিটি গলিতেই এখন এসব রিক্সা চলছে। পা চালিত স্বাভাবিক গতির রিক্সা হারিয়ে যাচ্ছে। ব্যাটারি চালিত রিক্সায় দুর্ঘটনার আশংকা থাকলেও শ্রম ও কম সময়ে উপার্জন বেশি হওয়ায় চাহিদা বাড়ছে এই অবৈধ ব্যাটারি দানবের।
রোববার সকালে শহরে সরেজমিনে ঘুরে দেখার সময় আলফাত স্কয়ারে দেখা হয়, রিকশা চালক মো. ফকর উদ্দিনের। আলফাত স্কয়ার থেকে দুই জন যাত্রী নিয়ে পুরাতন বাসস্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। ডানে বামে অন্য যান কাটিয়ে সাঁই সাঁই করে ছুঁটছেন এই চালক। কিছুদূর এগিয়ে ডান দিকে মোড় নেবার সময় দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন রিক্সা চালক ফখর। পেছনের সিএনজি চালক শক্ত করে ব্রেক কষায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন তার রিক্সায় থাকা দুইজন যাত্রীও।
ফখর উদ্দিন জানালেন, শহরের মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা তিনি। জীবিকার তাগিদে রিকশার হাতল ধরেছেন একযুগ আগে। এতোদিন পায়ে চালানো রিকশা চালাতেন তিনি। তিন মাস আগে ধারকর্য করে ৭০ হাজার টাকায় এই ব্যাটারি রিকশা কিনেছেন। শহরে রিক্সা চালাতে এই পর্যন্ত কোনো বাঁধার সম্মুখিত হতে হয় নি তার।
শুধু ফকর উদ্দিন নয়, অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু কিশোর থেকে শুরু করে শত শত রিক্সা চালক পায়ে ভর করে চালানো সনাতন রিক্সার পরিবর্তে ব্যাটারি চালিত রিক্সা কিনেছেন। রিক্সা গ্যারেজের মালিকরাও অধিক ভাড়া প্রাপ্তির লক্ষে ঝোঁকছেন এই দানব রিকশার প্রতি। এ কারণে পথে পথে দুর্ঘটনার আশংকা করছেন শহরবাসী।
রিক্সা চালকরা জানিয়েছেন, সনাতন পদ্ধতির রিক্সা প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ টাকায় ভাড়া পাওয়া যায়। ব্যাটারি চালিত রিক্সা দুইশ থেকে আড়াইশ’ টাকায় ভাড়া নিতে হয়। তবে এই দুরকমের রিক্সায় আয়ের পার্থক্য তেমন নেই। সনাতন রিকশায় দিন শেষে পাঁচশ’ থেকে ছয়শ’ ও ব্যাটারি চালিত রিক্সায় আটশ’ থেকে নয়শ’ টাকা উর্পাজন করা সম্ভব হয়।
রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ব্যাটারি চালিত রিক্সা এবং অটো রিক্সার কারণে শহরে পথে পথে দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে বলে সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য মন্তব্য করেন।
পুরাতন বাসস্টেশনের বাসিন্দা মাহবুবুল হাসান শাহীন বললেন, সামান্য অসতর্ক হলেই এসব রিক্সা দুর্ঘটনায় পতিত হয়। তবুও বাড়ছে দ্রুতগতির অবৈধ রিক্সা। শহরে একসময় এই রিক্সা চলতে দেওয়া হতো না, এখন শহরের সকল পথেই এসব রিক্সা চলছে।
সুনামগঞ্জ ব্যাটারি চালিত রিক্সা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দেওয়া তথ্য মতে, জেলা শহরে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলছে। এগুলোর কোনোটিরই নিবন্ধন নেই। নিবন্ধনের জন্য সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাছে আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি আসকর মিয়া বললেন, সনাতন রিক্সার অনেক চালকই বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, তারা পায়ে টেঁলে আগের মতো রিক্সা চালাতে পারেন না, তাদের কথা বিবেচনা করেই ব্যাটারি চালিত রিক্সা নিবন্ধন করার জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পৌরসভার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনেক শারিরিক প্রতিবন্ধীরাও এসব রিক্সা চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করছেন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত তিন চাকার ব্যাটারি চালিত রিক্সা শহরে বেড়ে যাবার কথা স্বীকার করে বললেন, শহরে নির্দিষ্ট সংখ্যক অটোরিক্সা চলার অনুমতি এবং লাইসেন্স দেবার নির্দেশনা আছে। তবে তিন চাকার ব্যাটারি চালিত রিক্সার লাইসেন্স দেবার সুযোগ নেই। কোন নির্দেশনাও নেই। লাইসেন্সও দেওয়া হয় নি। এসব রিক্সায় কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে, চালক পালিয়ে গেলে, তাকে বের করাও কঠিন হবে। কে কোন রিক্সা চালায় কোন প্রমাণপত্র নেই, লাইসেন্সবিহীন এসব রিক্সা আটক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, এজন্য পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিততা লাগবে।