সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ককে ঝুঁকিমুক্ত করা হোক

গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের আহসানমারা সেতুৃসংলগ্ন এলাকাটি ভয়ানক দুর্ঘটনা ঝুঁকিতে পড়ার আশংকা ব্যক্ত করে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সংবাদের তথ্য অনুসারে, দেখার হাওরের তীরবর্তী ওই সড়ক অংশ গত ভয়াল বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাওরের দিক থেকে সড়কের কিনারা পর্যন্ত বিস্তৃত জায়গা হাওরে ধসে পড়েছে। এমনকি মূল সড়কের ভিতর থেকেও মাটি সরে গিয়ে সড়ককে উপর থেকে ফাঁপা করে দিয়েছে। অর্থাৎ এসব অংশে সড়কের উপর পলেস্তারা আছে কিন্তু এর নীচে মাটি নেই। বন্যার পর এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের কিছু আপৎকালীন মেরামত কাজ হয়েছিলো। বালুভর্তি বস্তা ফেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে বস্তাগুলোর বড় অংশ ইতোমধ্যে ফেটে গেছে এবং আরও কিছু বালুভর্তি বস্তা চুরি হয়ে সড়কটি পুনরায় ফাঁপা অবস্থায় চলে গেছে বলে সংবাদে তথ্য দেয়া হয়েছে। এই ফাঁপা অংশ দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে সংবাদে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের আহসানমারা সেতু এলাকা এই সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সারা দেশ থেকে সুনামগঞ্জ ও দিরাইগামী যেসব বড় বাস চলাচল করে সেগুলো যে পথ দিয়েই আসুক না কেন আহসানমারা সেতু এলাকা পারি দিতেই হবে। সিলেটের সাথে এবং অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা তো রয়েছেই। দৈনিক ছোট-বড় কত গাড়ি ও ট্রাক এই সড়ক অংশ দিয়ে চলাচল করে তার বিশাল সংখ্যা সহজেই অনুমেয়। এই বিশাল সংখ্যক যানবাহনকে প্রচ- ঝুঁকির মধ্যে ফেলা দেয়া এককথায় খুব উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা নিয়মিত হয় না। কিন্তু যদি ঘটে যায় তাহলে যে বিশাল ক্ষতি হবে তা ভেবে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। সড়কের মূল মেরামত কাজ শুরু করার আগে সাময়িকভাবে আবারও অন্তত বালুর বস্তা ফেলে সড়কের ফাঁপা অংশ ভরাট করে দেয়ার জন্য আমরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করি।
শুধু যোগাযোগের জন্য আহসানমারা এলাকা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইদানীং এই অঞ্চলকে ঘিরে বিশাল একটি শিক্ষা হাব গড়ে উঠছে। আহসানমারা সেতু পেরিয়েই বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজের দৃষ্টিনন্দন ভবনগুলো নির্মিত হচ্ছে। একেবারে সেতুসংলগ্ন এলাকায় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেতুর অনতিদূরেই টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট। শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে সুনামগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে ছোট-বড় আরও বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু আছে, কিছু নির্মাণাধীন। এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই সড়কই ব্যবহার করতে হবে। সুতরাং মূলত সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ককে নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার সময় এসেছে। প্রকৃতিগতভাবে বিশাল দেখার হাওরে বড় বড় ঢেউ উঠে। এই ঢেউ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে দায়ী। এছাড়া হাওর ও সড়কের মধ্যে উচ্চতার যে ব্যবধান তা বন্যা মোকাবিলা করার উপযুক্ত নয়। একটু বড় বন্যা হলেই সড়কের এসব অংশ ডুবে যেতে দেখি আমরা।
সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কুশিয়ারা নদীর উপর সিলেট বিভাগের সবচাইতে বড় সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এর সুফল পেতে হলে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের উন্নয়ন করতে হবে। যেহেতু হাওরকে সরানোর কোনো উপায় নেই সেহেতু হাওরের ঢেউ ও বন্যার ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখার চিন্তা করেই সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সড়কটিকে অন্তত চার লেনে উন্নীত করার দাবি দীর্ঘদিনের। এই সুযোগে আমরাও দাবিটি পুনর্ব্যক্ত করে রাখলাম। শুধু আহসানমারা সেতু এলাকা নয় সড়কের পুরো অংশ নিয়েই এমন পরিকল্পনা সাজাতে হবে।