সুনামগঞ্জ স্টেশন ৩৭৫ মিটার দক্ষিণে করার মত দিয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান

বিশেষ প্রতিনিধি
ছাতক-সুনামগঞ্জ রেলপথের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে নিযুক্ত সমীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান মজুমদার এন্টার প্রাইজের সমীক্ষাকারী দল সুনামগঞ্জ সদর স্টেশনকে দক্ষিণ দিকে ৩৭৫ মিটার সরিয়ে নেবার পক্ষে সুপারিশ করেছে। মঙ্গলবার সকালে মজুমদার এন্টার প্রাইজের সমীক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাফিন আহমেদ এই তথ্য জানিয়েছেন।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মজুমদার এন্টার প্রাইজের সমীক্ষা কর্মকর্তা শাফিন আহমেদ জানান, গোবিন্দগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রেলপথের বর্তমান ডিজাইনে সুনামগঞ্জ সদর স্টেশন দক্ষিণ নতুনপাড়া পয়েন্ট থেকে শুরু হয়েছে। দক্ষিণ নতুনপাড়ার ওই অংশটুকুতে ১২০ টি বসতবাড়ি পড়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই বহুতল ভবন। ওখানকার বাসিন্দারা রেলপথ ৪০০ মিটার দক্ষিণে সরিয়ে নেবার দাবি তুলেছেন। সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়রও মহল্লাবাসীর দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। এই অবস্থায় সোমবার বিকালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে বিষয়টি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
শাফিন আহমেদ বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রকল্প পরিচালককে চিঠি দিয়ে এই বিষয়ে আজ কালের মধ্যে অবগত করা হবে। সুনামগঞ্জ সদরের রেল স্টেশন দক্ষিণে ৩৭৫ মিটার সরালে কোন বসতবাড়ি বা স্থাপনা পড়বে না। আমরা আশা করছি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তা আমাদের পরামর্শের গুরুত্ব দেবেন এবং ডিজাইন সেকশন থেকে এই অংশটির পরিবর্তন হয়ে আসবে। তাতে মাস খানেক সমীক্ষা কাজ পেছাতে পারে।
প্রায় ৬৬ বছরেরও আগে (১৯৫৪ সালে) সুনামগঞ্জের থানা শহর ছাতক পর্যন্ত রেললাইন এসেছে। কিন্তু সুনামগঞ্জ জেলা শহর এখনো যুক্ত হয় নি রেল লাইনের সঙ্গে। সুনামগঞ্জের উৎপাদিত ধান, সবজি, মাছ, পাথর কম পরিবহন খরচে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানোর জন্য রেলপথের দাবি বহুদিনের। জেলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে রেলওয়ে। রেলপথের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য নিয়োগকৃত মজুমদার এন্টারপ্রাইজের সমীক্ষা দল ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ শহরের দক্ষিণ নতুনপাড়া পর্যন্ত সমীক্ষা করছে। সমীক্ষাকালে গোবিন্দগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত ৫ টি স্টেশন নির্ধারণ করা হয়েছে। শেষ স্টেশন হবে দক্ষিণ নতুনপাড়া পাশর্^বর্তী ঝাওয়ার হাওরে। এই স্টেশনটির দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটার এবং প্রস্ত হবে ৫০০ মিটার।