বেড়েছে সুরমার পানি

স্টাফ রিপোর্টার
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি বেড়েছে। হাওর, জলাশয়ে পানি প্রবেশ করেছে প্রবল বেগে। গত তিন দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি নদীতে নেমেছে ঢল। তাই নিচু এলাকার বাসিন্দারা পড়েছেন ভোগান্তিতে।
ভারী বর্ষণে আউশ ধান ও বর্ষাকালীন সবজি জমি ছুঁই ছুঁই করছে ঢলের পানি। সুরমা নদীর তীরবর্তী গ্রামের একাধিক যাতায়াত সড়ক ডুবে গেছে।
সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার রেকর্ড অনুযায়ী সুরমা নদীর পানি ৭.৩৫ মিটার পর্যন্ত বেড়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা নদীর পানি সমতল বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পানি সমতল বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় লাউড়েরগড় ও সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যথাক্রমে ১৮০ মিলিমিটার ও ১১৬ মিলিমিটার ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৫৬০ মিলিমিটার। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বর্ষণের ধারা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এভাবে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী দুই এক দিনের মধ্যে সুরমা নদীর পানি সমতল বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
গত বছরের বন্যায় পানি উপচে উঠে পুকুরে মাছ চাষীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবার পুকুরের চারিদিকের পাড় আরও উঁচু করেছেন মাছ চাষীরা। যেসব বাড়ি ঘরে বন্যার পানি ঢুকেছিল, তারাও মেঝে উঁচু করেছেন। তবে গত বছরের ৪ দফা বন্যায় ফসলী জমির ক্ষতি হয়েছিল ব্যাপক।
জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা তানিম আহমদ জানান, বৃষ্টির পানি ও ঢলের পানিতে বাড়ির নিচু স্থান ডুবে গেছে। গ্রামের চলাচল রাস্তাও ডুবে গেছে। এখন আসা-যাওয়ায় নৌকা লাগে।
বল্লবপুর গ্রামে পুকুরে মাছ চাষী আব্দুল আলীম জানান, গত বছরের বন্যায় তাঁর একাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গিয়েছিল বন্যার পানিতে। তাই এবার বন্যা থেকে মাছ বাঁচাতে চারিদিকে উঁচু করেছেন পুকুরের পাড়।
মঙ্গলকাটা এলাকার কৃষক আব্দুল মোতাল্লিব বলেন, গত বছরের দীর্ঘ স্থায়ী বন্যায় ধান ও সবজি ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। এবারও গত তিনদিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে গ্রামীণ সড়ক ডুবে গেছে। ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে বেশি দিন পানি জমে থাকলে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হবে।
সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, যাদুকাটা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল আসা অব্যাহত থাকলে বন্যা হয়ে যাবে।