সুরমা ভেলী পার্কের পরিবেশ বিপন্ন

আকরাম উদ্দিন
ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ডাম্পিং করে বস্তা ভরাটের কারণে সুনামগঞ্জ শহরতলির সুরমা ভেলী পার্ক‘এর পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বালু ডাম্পিংয়ের সময় প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হয়ে পার্ক এলাকার নদী ভাঙনের ব্লকও সরে গেছে। পার্ক এলাকায় বিনোদন প্রেমিরা এখন আর যাওয়ার সুযোগ নেই। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত নদী ভাঙন প্রতিরোধের বস্তা ভরাটের কাজ শেষ করে, পার্ক‘এর অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে কর্তপক্ষকে।
২০১৩ সালের ৫ জুলাই সুরমা ভেলী পার্কের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। ধারারগাঁও গ্রামের সুরমা নদীর তীরবর্তী তিন একর জমিতে গড়ে ওঠা এই পার্ককে মানুষের সময় কাটানোর উপযোগী করা হয়নি ৭ বছরেও। পার্কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভাঙন রোধে স্থাপিত সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু হয়েছে। ৩ স্থানে ব্লক ধ্বসে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। বালু তোলার ড্রেজারের পানিতে মাটিও চলে যাচ্ছে নদীতে।
সুরমা ভেলী পার্কের প্রবেশ দ্বারে নোংরা অপরিচ্ছন্ন কাঁচা রাস্তা রয়েছে। ৩ দিকের বাউন্ডারী দেয়াল নেই। বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণের জন্য কয়েকটি পিলার বসানো ছাড়া আর কোন কাজ হয়নি। দৃষ্টিনন্দন কোনো স্থাপনাও নেই। পার্কে প্রবেশের গেইট নির্মাণ করা হয়েছে। ছোট ছোট কয়েকটি গাছ লাগানো হয়েছে। ২১ টি বসার আসন রয়েছে। পার্কের পূর্বদিকের সীমানা পর্যন্ত মাটি ভরাটও হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক সুরমা ভেলী পার্ক এলাকায় পানি মিশ্রিত বালু ডাম্পিং করা শুরু হয়েছে গত শীত মওসুম থেকে। ডাম্পিং করার বালু দিয়ে অন্য এলাকার নদী ভাঙন প্রতিরোধে ২শ’ কেজি ওজনের হাজার হাজার বস্তা কাউন্টিং করা হচ্ছে এই পার্কে। ইতোমধ্যে অন্তত: টানা ৬ বার পানি মিশ্রিত বালু ডাম্পিং করা হয়েছে পার্কের একাধিক স্থানে। প্রতিবার ৮-১০ হাজার বালু ভর্তি বস্তা তৈরি করে রেখে অন্য আরেকটি এলাকার নদী ভাঙন এলাকায় ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে এমন কাজ করায় পার্কের অস্তিত এখন আর নেই বললেই চলে
বাল্কহেড থেকে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বড় আকারের পাইপদ্বারা পানি মিশ্রিত বালু ডাম্পিং করা হচ্ছে এই পার্কে। এই কারণে ধস নেমে খসে পড়ছে নদীর তীরের ব্লক।
রোববার সকালে সুরমা ভেলী পার্কে গিয়ে দেখা যায়, সুরমা নদীর তীরে দুটি বড় আকারের বালু ভর্তি বাল্কহেড। বাল্কহেড থেকে বালু তোলার জন্য স্থাপন করা হয়েছে দুটি ড্রেজার মেশিন। এক সাথে চলছে বাল্কহেড থেকে বালু ডাম্পিং করার কাজ। বালু ডাম্পিং করায় চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে পানির ধারা। এই পানি পার্কের বিভিন্ন স্থানের গর্তে গড়িয়ে পড়ে কাঁদার সৃষ্টি হচ্ছে। পার্কের বিভিন্ন স্থানে রোপিত গাছ নষ্ট হয়েছে। বসার স্থান নেই।
স্থানীয় ব্যক্তি সুজাত জানান, সুরমা ভেলী পার্কের ভেতরে প্রতিদিন অসংখ্য মালবাহী গাড়ি লোড আনলোড করার জন্য পার্কিং করা হয়। কেউ কেউ পার্কের দায়িত্বে আছেন এমন পরিচয় দিয়ে টাকা রোজগার করেন।
কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আবু তাহের বলেন, সুরমা ভেলী পার্কের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এখন বালু ডাম্পিং ও বালূর বস্তা কাউন্টিং করার এবং গাড়ির মালামাল নামানোর নির্ধারিত স্থানে পরিণত হয়েছে এটি। এসব বন্ধ করে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি আমাদের।
কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল বরকত বলেন, সুরমা ভেলী পার্ক এলাকায় বালু ডাম্পিংয়ের বিষয় জেনে আমি ওখানে গিয়েছিলাম কাউকে পাইনি। পানি মিশ্রিত বালু উত্তোলনের কারণে পার্কের স্থায়ী মাটি চলে যাচ্ছে নদীতে। কয়েক স্থানের ব্লক খসে পড়েছে নদীতে। পার্কের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিলীন হচ্ছে অস্তিত্ব। সবাই মিলে পার্কের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং পার্ক রক্ষা করা জরুরী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, নদী ভাঙনের বস্তাগুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যাতে দেখতে পারেন এবং গণনা করতে সহজ হওয়ায় ওখানে কাজটি করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা কাজটি শেষ করার চেষ্টা করছি। পার্কের নদী তীরের ব্লক বন্যার সময় সরেছে, এগুলো কাজ করে ঠিক করে দেওয়া হবে।