সেই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মুদাহরপুর গ্রামের দুটি বীরনিবাস নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে বীরনিবাস নির্মাণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করায় দীর্ঘ ৬ মাসের বেশি সময় ধরে দুটি বীরনিবাস নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। যদিও গত ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সময় বেধে দিয়েছিলেন ইউএনও। কিন্ত বেধে দেওয়া সময়েও কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বীরনিবাস নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ১ কোটি ২০ লাখ ৫৫৯ টাকা ব্যয়ে ৯টি বীর নিবাস নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স জব্বার বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর ঠিকাদার মঞ্জুরুল হক সুজন হলেও কাজ বাস্তবায়ন করছেন সাব ঠিকাদাদর চুন্নু মিয়া। কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের শুরুতে বীর নিবাস নির্মাণ কাজ শুরু করে তা একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু ও শেষ হয়নি। কাজের শুরু থেকে চুন্নু নি¤œমাণের ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে কাজ করায় মোদাহরপুর গ্রামের উপকারভোগী প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়ার স্ত্রী মোছা. আমিনা ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ওমর ফারুকের ছেলে হাবিবে দুজাহান ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএনও দুই দুইবার কাজ পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পান। কিন্তু অভিযোগ করার কারণে চুন্নু গত ২৯ মার্চ থেকে ওই দুটি বীরনিবাস বন্ধ করে দেয়। গত ১ সেপ্টেম্বর হাবিবে দুজাহান উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউএনওকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিষয়টি তদন্ত করা হয়নি। গত ৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একজন মুক্তিযোদ্ধার অনুরোধে চুন্নুকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সবকটি বীরনিবাস নির্মাণ কাজ শেষ করার সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়। পরে চুন্নু ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি নেয়। কিন্তু ইউএনওর বেধে দেওয়া সময়েও কাজ করতে পারেনি চুন্নু। এদিকে মূল ঠিকাদার মঞ্জুরুল হক এ কাজ শেষ করতে ১০ অক্টোবর সময় ইউএনওর কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু বর্ধিত সময়েও কাজ শেষ হয়নি।
অভিযোগকারী হাবিবে দুজাহান বলেন, ‘আমরা এখন হতাশ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে যদি এভাবে হেনস্থা হতে হয় তাহলে অন্যদের ক্ষেত্রে কি হবে তা বলাই বাহুল্য। এখন আমাদের কি করা উচিত তাও ভেবে পাচ্ছি না।’
এ ব্যাপারে চুন্নু মিয়া ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ঠিকাদার মঞ্জুরুল হক সুজন জানিয়েছেন, চুন্নুর সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘তদন্ত চলমান রয়েছে। একেকটা বীরনিবাস একেক জায়গায় হওয়ায় এবং আইটেম অনুযায়ী ক্যালকুলেশন করা হচ্ছে। যে কারণে তদন্ত কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে।’
ইউএনও মুনতাসির হাসান বলেন, ‘তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জানা যাবে কত শতাংশ কাজ হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ঠিকাদারের কাজ বাতিল করা হবে।’